কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে বদলির পরও সেখানে যোগদান করেননি ৬ জন চিকিৎসক। কেন তারা যোগদান করেননি, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে কিছুই জানান নি। ফলে তাদের বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের নির্দেশে চিকিৎসকদের বরখাস্ত করে শনিবার আদেশ জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
তাদের অনেকে মৌখিকভাবে বলেছেন, তারা কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে যেতে রাজি নন, তাতে যে সিদ্ধান্তই নিক কর্তৃপক্ষ। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এই চিকিত্সকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে ৬ ডাক্তার বরখাস্ত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য আব্দুল জব্বার খাঁন। রবিবার নিজ ফেসবুক ওয়ালে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। সেখানে তিনি লেখেন,
‘এই দুর্যোগের সময় আর কেউই চাকরি হারালো না, হারালো ছয়জন চিকিৎসক!
সব সময় ভেবেছেন দেশের স্বাস্থ্যখাতকে উন্নত করার কোনো দরকার নেই। আমার কিছু হলে বিদেশে গিয়ে ট্রীটমেন্ট নিয়ে আসবো। রথ দেখা কলা বেচা দুটোই হবে। সামান্য সর্দিকাশি হলেও Thorough Check up করতে বিদেশে উড়াল দিয়েছেন। বাই দ্যা ওয়ে, এই thorough check up জিনিসটাও কিন্তু আপনারই পরিভাষা। মেডিকেল সায়ন্সে এই ভাষা এখনো অনুপস্থিত।
এদেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় কি শুধু ডাক্তার-এঞ্জিনিয়াররা পড়ে? বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, আইনের ছাত্ররা পড়ে না? গায়ে লাগলো? ইউজিসির কাছ থেকে মাথাপিছু খরচের হিসাবটা দেখে নিবেন। জ্বী, কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ জেনারেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে কম। তারপরও ছড়ি ঘোরাবার সময় মনে হয় এরা দেশের মানুষের টাকা চুষেচুষে খেয়েছে, এদের শায়েস্তা করতে হবে।
আপনার অফিসটাকে ঝকঝকে তকতকে রাখার জন্য পিয়ন আবদালি সবই রেখেছেন। চাকরি জীবনের মাঝ বয়সে এসে গাড়ি, ড্রাইভার সব পাবার জন্য নিয়ম বানিয়ে নিচ্ছেন। আহা! আপনার সেবাটাই শুধু জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর ডাক্তারের সেবা, শিক্ষকের সেবা?
আপনি কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে নিজের অফিস রুমে বসে এসিটা ছেড়ে একটু ফ্রেশ হয়ে নিতে পারেন। আর আপনার সরকারি ডাক্তার সে দৌড়াতে দৌড়াতে শুধু রোগীই দেখবে! আপনার দেশের ডাক্তারের রুমে শেষ কবে গিয়েছেন? এই ডাক্তার তার শিক্ষাজীবনের কোন স্তরে আপনার চেয়ে পিছিয়ে পড়া ছাত্র ছিল? আপনাদের কত পারসেন্ট এই ডাক্তারের চেয়ে বেশি মেধার স্বাক্ষর রাখতে পেরেছেন?
৬ ডাক্তার বরখাস্ত: পিএসসি সদস্য আব্দুল জব্বার খাঁনের প্রতিবাদ

ক্যাডার সার্ভিসের মধ্যে এই আকাশপাতাল বৈষম্য সৃষ্টি করেছে কে? একজন গাঁটের পয়সা খরচ করে গাড়ি, ড্রাইভার, এসি পাবে আরেকজন চলবে জনগণের পয়সায়! ওয়াও!!
আজকে স্বাস্থ্যখাতের যে করুণ অবস্থা দৃশ্যমান হয়েছে সেজন্য দায়ী কে, কারা? তাদের কয়জনের চাকরি গেছে? নাকি তারা untouchable সম্প্রদায়ের?
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কি ডাক্তারদের কাজ? মেডিকেল ইকুইপমেন্ট কেনার ক্ষেত্রে যে ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাট চলেছে যুগযুগ ধরে সেটার ভাগতো আপনিও নিয়েছেন। এসব সিন্ডিকেটের খবর আপনার পিয়নও জানে। জানেন না শুধু আপনি?
ঐ ছয়জনকে বরখাস্ত করার আগে এগুলো একটু ভাবা উচিত ছিল না? একবারো কি আপনারা এই লকডাউনের মধ্যে ডাক্তাররা কি খেয়ে ডিউটি করছেন, নাকি না খেয়ে করছেন, নাকি শুকনো পাউরুটি আর কলা খেয়ে করছেন – সেই খবর রেখেছেন? কী সুব্যবস্থা রেখেছেন তাদের জন্য?
করোনা ভাইরাস হয়তো আর দুই মাস পর চলে যাবে কিন্তু আপনারা যে কঠিন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বসে আছেন সেটা থেকে জাতি কীভাবে রক্ষা পাবে?
ভাবার সময় পেয়েছেন, ভাববেন। বেঁচে থাকলে ভাইরাসমুক্ত হয়ে ফিরে আসবেন – এই শুভকামনাই রইলো।’
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় বরখাস্ত হওয়া কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের ওই ৬ চিকিৎসক হলেন, গাইনী বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট শারমিন হোসেন, আবাসিক চিকিৎসক মুহাম্মদ ফয়জুল হক, কনসালটেন্ট হীরম্ব চন্দ্র রায়, মেডিকেল অফিসার ফারহানা হাসনাত উর্মি পারভিন ও কাওসারউল্লাহ।
সুত্র : ইত্তেফাক ।



