‘৫৪ নদীতে বাঁধ দিয়ে আন্তর্জাতিক নীতি লংঘন করছে ভারত’

বাম রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, শুধু তিস্তা নয় ভারত থেকে আগত ৫৪ নদীতে ভারত এক তরফা বাঁধ দিয়ে সকল প্রকার আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতি লংঘন করে পানি প্রত্যাহার করছে। ফারাক্কা বাঁধের ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার কথা সকলের জানা আছে। সুরমা-কুশিয়ারা তথা মেঘনা নদীর উজানে বরাক নদীর টিপাই মুখে বাঁধ দিয়ে ভারত জল বিদ্যুৎ প্রকল্পের নামে কার্যত সুরমা-কুশিয়ারা তথা মেঘনা নদীকে হত্যার পরিকল্পনা করছে।
আজ জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে তিন দিনব্যাপী ঢাকা-তিস্তা ব্যারেজ উদ্দেশ্যে রোর্ডমার্চ-এর উদ্বোধন করতে গিয়ে বাম রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এঅভিযোগ করেন।
ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার আর সরকারের নতজানু নীতির অভিযোগ এতে এর প্রতিবাদে এবং তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের পক্ষ থেকে আজ জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে তিন দিনব্যাপী ঢাকা-তিস্তা ব্যারেজ রোডমার্চ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
রোর্ডমার্চ-এর উদ্বোধন করেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সিপিবি-বাসদ-বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতা খালেকুজ্জামান। উদ্বোধনী সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাম মোর্চার অন্যতম নেতা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লা কাফী রতন, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ ও রাজেকুজ্জামান রতন।
রোডমার্চের উদ্বোধনকালে খালেকুজ্জামান বলেন, “নদীমাতৃক বাংলাদেশ আজ মরুকরণের হুমকীর মুখে। উজানে একতরফা পানি সরিয়ে নেয়ার ভারতীয় আগ্রাসী তৎপরতা ও দেশের ভিতরে সরকারের নতজানু, ভ্রান্তনীতি ও দখল-দুষনে ১২০০নদী কমে ২৩০ এ নেমে এসেছে এবং নদীর চেহারা খালে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, “ভারতের শাসকগোষ্ঠী তাদের হীনস্বার্থে নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে কখনো পানি সমস্যাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগিয়েছে। কখনো সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার নামে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করে চলেছে। একই ভাবে বর্তমান সরকারসহ অতীতের সকল সরকার নির্লজ্জভাবে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের প্রতি নতজানু থেকে কার্যত ভারতের আগ্রাসী পানি নীতিকে সমর্থন যুগিয়েছে। শাসক শ্রেণির একাংশ ভারতকে বন্ধু রাষ্ট্র এবং আরেকাংশ হিন্দু রাষ্ট্র বলে ভোটের রাজনীতিতে ফায়দা তুলতে চায়।
ভারত একের পর এক নদীর পানি প্রত্যাহার করলেও বাংলাদেশের সরকার কোন কার্যকর প্রতিবাদ-পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বাসদসহ বিভিন্ন বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলসমূহের পক্ষ থেকে বার বার দাবি জানানো সত্বেও ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের কেউই কর্ণপাত করছে না। জোট-মহাজোটের ভোটের রাজনীতির কাছে দেশ, জনগণ, নদী ও প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ কোন কিছুই গুরুত্ব পায় না।”
তিনি সর্বস্তরের জনগণের প্রতি ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার আর সরকারের নতজানু নীতির প্রতিবাদে এবং তিস্তাসহ সকল নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে সাইফুল হক বলেন, “শুধু তিস্তার পানিরই সমস্যা নয়, ফারাক্কার প্রভাবে গোটা উত্তরবঙ্গ মরুভূমি হওয়ার পথে। ভারতের সাথে পদ্মা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্রসহ অভিন্ন ৫৪ নদীসহ ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদীর পানি বন্টনের সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে এবং অভিন্ন নদীর পানি সমন্বিত ও যৌথ ব্যবস্থাপনা-ব্যবহার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং এ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য চীন, ভারত, বাংলাদেশ, পেনপাল ও ভূটানের সাথে যৌথ অববাহিকা কর্তৃপক্ষ গঠন করা প্রয়োজন।”
কাফী রতন বলেন, এবারে তিস্তার পানি চুক্তি ছাড়া বাংলাদেশের জনগণ অন্য, কিছু দেখতে চায় না। আর তিস্তা চুক্তি করতে না পারলে জনগণকে আন্দোলনের মাধ্যমেই পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে হবে এবং নতজানু সরকারের বিরুদ্ধেও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, “বাস্তবে ভারত বন্ধু বা হিন্দু নয় একটি সা¤্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র। ফলে সা¤্রাজ্যবাদের চরিত্র অনুযায়ী ভারত পার্শ্ববর্তী দেশের উপর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামরিক-সাংস্কৃতিক কর্তৃত্ব ও প্রভাব বিস্তার করতে চায়। সেই জন্যই ভারতের বাতিল প্রকল্প বাংলাদেশে এনে সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করার চক্রান্ত করছে। বাংলাদেশের উপর দিয়ে ট্রানজিট ও বন্দর ব্যবহার করতে চায় অথচ তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি এবং মাত্র ৩০ কি.মি. করিডোর দিচ্ছে না নেপাল, ভূটানের সাথে যোগাযোগের জন্য। কেউ কেউ আবার ভারত বিরোধিতার নামে উগ্র সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে ফায়দা তুলতে চায়।”
উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে রোডমার্চ যাত্রা করে আজ সিরাজগঞ্জে বিকেল ৫টায় বাজার স্টেশন চত্তরে সমাবেশ শেষে রোডমার্চ বগুড়া গিয়ে রাত্রিযাপন করবে। আগামীকাল ৮ এপ্রিল রোডমার্চ বগুড়া থেকে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করে রংপুরে রাত্রীযাপন করবে এবং তৃতীয় দিন ৯ এপ্রিল সকাল ১০টায় রংপুর প্রেসক্লাব থেকে মেডিকেল মোড়, পাগলাপীর, বড়ভিটা, জলাঢাকা, ভাদরুদরগা, ডিমলা, শুটিবাড়ী, তিস্তা ব্যারেজ গিয়ে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এবং সমাপনী সমাবেশ থেকে পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।




