খেলাশিরোনাম

৫২২ রানে টাইগারদের ইনিংস ঘোষণা

দলকে চাপ থেকে তুলে নিয়ে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেলেন মুশফিকুর রহিম। প্রথম দিন দলীয় ২৬ রানে তিন উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন এই অভিজ্ঞ টাইগার ব্যাটসম্যান। মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন ৫২২ রানে ইনিংস ঘোষণা করেন টাইগার দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দলের রান যখন ৫২২ রান পূরণ হয় তখন মুশফিক ও মিরাজকে ড্রেসিং রুমে চলে আসতে বলেন অধিনায়ক।
ইতিহাসের প্রথম উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করার অনন্য ইতিহাস রচনা করলেন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকুর রহিম। আর এই ইতিহাস গড়ার পথে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন কুমার সাঙ্গাকারা, মহেন্দ্র সিং ধোনি, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারদের মতো কিংবদন্তিদের। বাংলাদেশেরও একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি টেস্ট ডাবলের দেখা পেলেন তিনি। সাকিবকে (২১৭ রান, ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে) টপকে টেস্টের এক ইনিংসে বাংলাদেশের পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এখন মুশফিকুর রহিমের (২১৯ রান )।
ইনিংস ঘোষণার পর জিম্বাবুয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছে। এখন দেখার বিষয় জীম্বাবুয়ে স্বাগতিকদের কতো রানের লিড দিতে পারে।এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ১ ওভারে বিনা উইকেটে ৭ রান। মাসাকাদজা ৭ রান আর ব্রায়ান চারি ০ রানে ব্যাট করছেন।

মুশফিক ২১৯ রানে এবং মিরাজ ৬৯ রানে অপরাজিত থাকেন।
মিরপুর টেস্টে প্রথম দিন চাপ থেকে দলকে টেনে তুলে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যায় টাইগার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। সেই সাথে তিনি জিম্বাবুয়ের সাথে ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পান।মুশির এটি দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। এর আগে শ্রীলঙ্কার সাথে গলে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেন ডান হাতি এই টাইগার ব্যাটসম্যান। ৩৮২ বল খেলে ১৬ টি চার ও ১ টি ছয়ের সাহায্যে ডাবল সেঞ্চুরি করেন তিনি।মুশফিকই একমাত্র বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান যিনি দ্বিতীয়বার ডাবল দ্বি-শতকের দেখা পেলেন।এর আগে আর কোনো টাইগার বাটসম্যান এই কীর্তি গড়তে পারেননি।
জিম্বাবুইয়ান বোলার চাতারা এদিন তার বোলিংয়ে এসে মাসলে টান লেগে ইনজুরিতে পড়েন।এই ইনজুরির কারনে তিনি বাংলাদেশ সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন।
এর আগে রোববার (১১ নভেম্বর) টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় সকাল ৯:৩০ মিনিটে। সরাসরি সম্প্রচার করছে বিটিভি এবং গাজী টিভি।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন জিম্বাবুয়ে পেস বোলার কাইল জার্ভিস। ইনিংসের সপ্তম ওভারে জার্ভিসের বলে উইকেটরক্ষক চাকাভাকে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে ফেরেন ইমরুল কায়েস। তার এক ওভার পর সেই জার্ভিসের বলেই ব্যক্তিগত ৯ রানে আউট হন লিটন দাস।
ইনিংসের ১২তম ওভারে ডোনাল্ড তিরিপানোর বলে খোঁচা দিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন অভিষিক্ত মোহাম্মদ মিঠুন। বিদায়ের আগে কোনো রান করতে পারেননি তিনি। দলীয় ২৬ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
২৬ রানে তিন উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক। এই দু’জনের জোড়া সেঞ্চুরিতে দিন শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩০৩ রান করে টাইগাররা।
টেস্ট ক্যারিয়ারে সপ্তম সেঞ্চুরির পর ১৬১ রানে বিদায় নেন মুমিনুল। মুমিনুল আউট হবার পর ব্যাটিংয়ে আসেন তাইজুল। কিন্তু তাইজুল চার রান করে আউট হলে দলীয় অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ০ রানে অপরাজিত থেকে ১ম দিনের খেলা শেষ করেন।
মিরপুর টেস্টে দ্বিতীয় দিন শুরু থেকেই দুই টাইগার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ সতর্কতার সাথে খেলতে থাকে। এই দুই ব্যাটসম্যানের ব্যাটের উপর ভর করে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু সবাইকে হতাশ করে লাঞ্চের পরেই আউট হয়ে সাজ ঘরে ফিরে যান দলীয় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সেই সাথে ৭৩ রানের পার্টনারশিপ ভাঙ্গে স্বাগতিকদের। আউট হবার আগে রিয়াদ ৩ চারের সাহায্যে ৩৬ রান করে জার্ভিসের বলে চাকাভার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।
রিয়াদের আউট হবার পর ব্যাটিংয়ে ভালো করতে পারেননি আরিফুল হক। সপ্তম উইকেটে ব্যাটিংয়ে নেমে চার রান করে জার্ভিসের বলে চারির হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজ ঘরে ফিরে যান।
মুমিনুল হকের পর মুশফিকুর রহিমও সেঞ্চুরির দেখা পায়। এদিন মুশফিক তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ শতক তুলে নেন। মুশফিক ১৮৭ বল খেলে ৮ চারের সাহায্যে তার শতক পূরণ করেন। জিম্বাবুয়ের সাথে মুশফিকের এটি প্রথম সেঞ্চুরি।
তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলকে বিপর্যয় কাটিয়ে ভালো অবস্থানে নিয়ে যায় মুশফিক ও মুমিনুল। তাদের দু’জনের ব্যাটে ভর করে ২০০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে এই জুটি। চতুর্থ উইকেটে ২০০ রানের রেকর্ড পার্টনারশিপ মুমিনুল ও মুশফিকের।
সিলেটে প্রথম টেস্টে হেরে সিরিজ হারের শঙ্কায় রয়েছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে সিরিজ হার ঠেকাতে মিরপুর টেস্টে জয়ের বিকল্প নেই টাইগারদের সামনে।
এ ম্যাচে অভিষেক হয়েছে মিঠুন ও খালেদের। এছাড়া দলে ফিরেছেন সিলেট টেস্টে না খেলা মোস্তাফিজও। এ তিনজনকে জায়গা দিতে দল থেকে বাদ পড়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, নাজমুল ইসলাম অপু ও আবু জায়েদ রাহি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button