১৮ গরু চুরির সরজমিন প্রতিবেদন, দাউদকান্দিতে ২ চোর নিহত আহত ১, জনমনে স্বস্তি

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতাঃ কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় ১৮ গরু চুরি জের গণপিটুনিতে দুই গরু চোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরো একজন চোরকে গুরুতর আহত করেছে এলাকা বাসী। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২ টায় উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুরের পিপিয়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন -কুমিল্লা দাউদকান্দি থানার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত জাহিদ আলীর ছেলে আবু মুছা (৩২) ও বরিশাল পাথরঘাটা থানার মদদিয়া গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে জুয়েল (৩২)। এ ঘটনায় সঙ্ঘবদ্ধ আরেক চোর মঠবাড়িয়ার খোতখালি গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের পুত্র মুনসুর (৩৬) গুরুতর আহত হয়েছে। দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আলমগীর ভূঞা জানান, শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুরের পিপিয়াকান্দি গ্রামে আলাউদ্দিন মিয়ার গরুর গোয়ালঘরে অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন চোর তাদের বাছুর সহ গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর স্ত্রী আসমা বেগম টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা চোরদের ধাওয়া করে, অবস্থা বেগতিক দেখে দুজন নিকটবর্তী আব্দুল কাদিরের ইরিধান ক্ষেতে শুয়ে নিজেদের লুকানোর চেষ্টা করে কিন্তু ওই সময় আশপাশের ছয় গ্রামের লোক দু’জনকে ধরে গণপিটুনি শুরু করে। অন্য ধৃত চোর মনসুরকে নিকটবর্তী নতুন বাজার থেকে আটক করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ সেলিম, তিনি সিএনজি গাড়ি যোগে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে মনসুরকে চ্যালেঞ্জ করেন অসংলগ্ন কথা বলায় আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় এর আগেই তাকেও গনপিটন করা হয় । রাতেই তিনজনকে পুলিশ নিয়ে যায় চিকিৎসার জন্য দাউদকান্দি (গৌরীপুর)উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু মুছা মারা যান এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় জুয়েলকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পর সেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। নিহত চোরদের সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় । এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি ও গরুর মালিক আলাউদ্দিন বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছেন। রোববার সরজমিন ঘটনাস্থল এবং আশপাশ ঘুরে গরু চুরি এবং অভিনব কৌশলে ঘরের বেড়া কেটে চুরির অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল আহম্মেদ এবিষয়ে বলেন, তাঁর ইউনিয়নে কোনো অপরাধীর ঠাই হবে না, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি ইউনিয়ন বাসীকে নিয়ে সর্বদা সচেষ্ট। তবে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া চুরির ঘটনায় ক্ষিপ্ত হওয়ার কারনেই এই গণপিটুনির ঘটনা বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক কাটারা পারা আইদরপাড় আহম্মদ আলীর দুটি এবং পিপিয়া কান্দির আবদুল কাদিরের দুটি গরু চুরি হলে থানায় পৃথক পৃথক ভাবে অভিযোগ পেশ করেন বলে তারা জানিয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ মোহাম্মদ পুরের সঞ্জিতের দুটি, খলিলের দুটি, নোয়া গাও আলী হোসেনের দুটি, আউয়ালের একটি, সুরের বাগ লতিফের দুটি, জলফুর দুটি, ওজারখোলা মামুনের একটি সর্বমোট ১৮ গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে পিপিয়াকান্দির মোন্তাজ এবং সিদ্দিকের ঘরের বেড়া কেটে দরজার খিল খুলে প্রায় চার লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায় চোরের দল। গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ রাকিবুল ইসলাম জানান, মুছার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই সহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে থানায়। ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে ধরতে অনেক বার অভিযান চালানো হয় কিন্তু সে এতটাই ধূর্ত ধরার আগেই পালিয়ে যেতো। এদিকে মুছার স্ত্রী হালিমা জানায়, তাঁর স্বামী চট্টগ্রাম থাকে কেউ ফোন করে তাকে এলাকায় এনেছে। চুরির সাথে মুছা জড়িত নয়, তিনি বিচার প্রার্থী হয়ে আইনের আশ্রয় নিবেন বলে জানান। উল্লেখ্য মুছা তিনটি মেয়ে সন্তানের বাবা ছিলেন। অপরদিকে আলাউদ্দিনের স্ত্রী আসমা বেগম জানান, তাঁর স্বামী একজন দিনমজুর সে দিনে শ্রমিকের কাজ, রাতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। উদ্দীপন নামের এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋন নিয়ে কিস্তি পরিশোধের বিনিময়ে দুটি গরু কিনেছেন এছাড়া আপ নামের আরেকটি এনজিও থেকেও ঋন নিয়েছে। গরু গুলো না পেলে ঘর বাড়ি বিক্রি করে ঋন পরিশোধ করতে হতো। চুরি বন্ধে এখনো এলাকার ঘরে ঘরে স্বামী স্ত্রী পালা করে রাত জেগে পাহারা দেয় বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।




