১০ টাকায় ৩ কেজি বেগুন!

রাউজান-ফটিকছড়ির উপর দিয়ে প্রবাহিত সর্তা খালের দু’পাড়ে ব্যাপক হারে চাষ হয় হরেক রকম সবজি। এসব সবজির মধ্যে অন্যতম হলো বেগুন। এখানে যে বেগুন উৎপাদিত হয় সেটি স্থানীয়দের কাছে ‘ডাবুয়ার বায়ুন’ হিসাবে পরিচিত। শীতের শুরুতে যখন বেগুনটি বাজারে আসে তখন কেজি প্রতি দাম থাকে একশ থেকে একশ বিশ টাকা পর্যন্ত।
চাহিদা থাকায় চাষিরা প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও খালের দু’পাড়ে শত শত একর জমিতে এ বেগুন চাষ করেন। এবার ফলনও হয়েছে ভালো। তবে প্রথমদিকে এ বেগুনের দাম বেশি থাকলেও মৌসুম শেষে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ৩ কেজি বেগুন!
এখানকার কৃষকরা জানান, বাপ-দাদার পেশা হিসেবে তারা সবজি চাষ করেন। এসব সবজি ফলাতে গিয়ে নিজেরা হাঁড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করার পাশাপাশি দিনমজুর নিয়োগ দেন। এতে প্রত্যেক মজুরকে দৈনিক ৬শ থেকে ৭শ টাকা পর্যন্ত বেতন দিতে হয়। এছাড়া সার-বীজসহ যাবতীয় ওষুধ বাবদ বহু টাকা খরচ হয়। ফলে সবজি ক্ষেতে তেমন লাভ হয় না বলে দাবি তাদের। তবে মৌসুমের প্রথম পর্যায়ে ফলন পাওয়া গেলেই এ লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠা সম্ভব বলে জানান তারা।
স্থানীয় সাজেদা কবির চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সাভাপতি মাওলানা দিদারুল আলম বলেন, সড়ক যোগাযোগ না থাকায় সর্তা খাল পাড়ি দিয়েই অনেক চাষিকে তাদের সবজি কূলে আনতে হয়। এতে কৃষিকরা তাদের উৎপাদিত ফসল দ্রুত বাজারজাত করতে না পারায় অনেক সবজি পথেই নষ্ট হয়ে যায়। তবে তাদের এ দুর্ভোগ লাগবে খালের উপর হচ্ছারঘাটে একটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন রাউজানের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। ব্রিজটি নির্মিত হলে চাষিরা লোকসান থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করছি।
স্থানীয় কৃষক নুর মুহাম্মদ, ইউপি সদস্য নঈম উদ্দিন, হাছান মুরাদ রাজু, আক্তার হোসেন, রনি, হারুন, সেলিম ও শাহাবউদ্দীন একই অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, হচ্ছারঘাট এলাকায় ব্রিজটি নির্মিত হলে সর্তা খালের দু’পাড়ে উৎপাদিত মৌসুমী সবজি দ্রুত বাজারজাত করা যাবে। মানুষ কীটনাশকমুক্ত টাটকা সবজি পাবে।
এসব সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও সরবরাহ করা যাবে বলে জানান চাষিরা।




