slider

হাসপাতালে বাড়ছে জ্বর, ডেঙ্গু রোগীর ভীড়

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের ঘিওরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ঘিওর উপজেলা হাসপাতালে ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীর রয়েছেন। সাথে নতুন যুক্ত হয়েছে ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি আর ডায়রিয়া রোগী। এতে করে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে।

ডাক্তারদের মতে, হাসপাতালে আগত রোগীর ৬৫ শতাংশই সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়া, শরীর ব্যথা নিয়ে আসেন। উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়ির ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

ঘিওর উপজেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।এ নিয়ে উপজেলার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১১২ জন।

উপজেলার বানিয়াজুরী, বালিয়াখোড়া, নালী, সিংজুরী, পয়লা, বড়টিয়া ও ঘিওর সদর ইউনিয়নের প্রায় প্রতি বাড়িতেই সর্দি জ্বর ও শরীর ব্যাথার উপসর্গ দেখা দিয়েছে। উপজেলা, জেলা হাসপাতাল ও বেসরকারী হাসপাতালে ভীড় বাড়ছে।

বালিয়াখোড়া ইউপি চেয়ারম্যান আওয়াল খান বলেন, এমন কোন বাড়ি নেই যে বাড়িতে দু একজন সর্দি জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে না। আমার বাড়িতেও তিনজন জ্বরে আক্রান্ত।

বানিয়াজুরী এলাকার জেরীন ফার্মেসীর মালিক মো: জসীম উদ্দিন বলেন, গত মাসখানেক ধরে সর্দি- জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন রোগীরা এসব রোগের ওষুধ কিনতে ভীড় করছেন।

উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বাদশা, আফসার, শিমু আক্তার বলেন, জ্বর হয়েছে, সাথে অসহ্য হাত পা ব্যাথা। পরিবারের প্রায় সবাই আক্রান্ত। তাই হাসপাতালে ওষুধ নিতে আসছি।

বানিয়াজুরী গ্রামের ইমন বলেন, আমার পরিবারের তিনজনের সর্দি জ্বরে আক্রান্ত হই। সাথে অসহ্য শরীর ব্যথা, ডায়রিয়া। ঘিওর হাসপাতালে যাচ্ছি ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে।

কাকজোর কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ প্রোভাইডর কাজী আরিফুল ইসলাম বলেন, এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই সর্দি, জ্বর ও ব্যাথার উপসর্গ দেখা দিয়েছে। সাধ্যমতো চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছি।

ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: হাসিব আহসান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ জন রোগীর মধ্যে ৬৫ শতাংশ রোগীই সর্দি-জ্বর, গলা- মাথা ব্যথা উপসর্গ নিয়ে আসছেন। প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button