জাতীয়শিরোনাম

হালদায় দুই ঘণ্টায় ৮ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ

প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ। নদীতে দুই ঘণ্টায় আট হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করেছেন জেলেরা।
গতকাল শনিবার রাত থেকে ডিম আহরণকারীরা ডিম সংগ্রহ করছেন। রাত সাড়ে ৯টা থেকে হালদা নদীতে ৪০০ জেলে ডিম সংগ্রহে নামেন। দুই ঘণ্টায় তাঁরা অন্তত আট হাজার কেজি ডিম পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, প্রায় ৪০০ ডিম সংগ্রহকারী রয়েছেন। তাঁরা সবাই ডিম সংগ্রহ করছেন। প্রত্যেকে ১৫-১৬ কেজি করে ডিম এরই মধ্যে সংগ্রহ করেছেন। কেউ কেউ এর চেয়ে বেশিও করেছেন। দুই ঘণ্টার মধ্যে প্রায় আট হাজার কেজি
এর আগে ডিম ছাড়ার খবর পেয়ে খলিফার ঘোনা, রামদাশ মুন্সির হাট থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত জেলেরা ডিম সংগ্রহ করা শুরু করেন বলে বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাত ১২টায় ডিম সংগ্রহকারী মোহাম্মদ বাহাদুর জানান, তিনি ১৮ থেকে ২০ কেজি ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছেন।
হাটহাজারীর উত্তর মাদ্রাসার ডিম সংগ্রহকারী বখতেয়ার বলেন, শনিবার সারা দিন হাটহাজারী ও রাউজান অংশের হালদা নদীর বিভিন্ন ঘাটে নমুনা ডিম পাওয়া গেছে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আস্তে আস্তে নদীর আজিমের ঘাট, অঙ্কুরীঘোনা, মদুনাঘাট, বাড়িয়াঘোনা, মাছুয়াঘোনা হাট, সিপাহীর ঘাট, গড়দুয়ারা এলাকায় ডিম সংগ্রহকারীরা ভালোভাবে ডিম পাওয়ার খবর দিতে থাকেন।

জানা গেছে, বর্ষণের ফলে হালদার সঙ্গে সংযুক্ত খাল, ছরা ও নদীতে ঢলের সৃষ্টি হয়। সাধারণত চৈত্র ও বৈশাখ মাসে প্রবল বর্ষণ হলে মা মাছ ডিম ছাড়ে। কিন্তু এবার বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকায় ঢলের প্রকোপ হয়নি। বৈশাখ মাসের মাঝামাঝিতে নদীতে মা মাছ সামান্য পরিমাণ ডিম ছেড়েছিল।
এর আগে শুক্রবার (২৪ মে) সন্ধ্যার পর থেকে বজ্রসহ প্রবল বর্ষণ শুরু হলে নদীর পাড়ে অবস্থান নেন ডিম আহরণকারীরা। বর্ষণের ফলে হালদার সঙ্গে সংযুক্ত খাল, ছরা ও নদীতে ঢলের সৃষ্টি হয় এবং রুই জাতীয় (রুই, মৃগেল, কাতল, কালবাউশ) মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মা মাছ সংরক্ষণ, ডিম থেকে রেণু তৈরির কুয়া সংস্কার, কুয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থাসহ নানা উদ্যোগের কারণে হালদায় ডিম সংগ্রহের পরিমাণ এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
হালদা থেকে ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালে এক হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে দুই হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মা মাছ সংরক্ষণ, ডিম থেকে রেণু তৈরির কুয়া সংস্কার, কুয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থাসহ নানা উদ্যোগের কারণে হালদায় ডিম সংগ্রহের পরিমাণ বেড়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button