অপরাধশিরোনাম

হার্টের রোগীকে ৯ দিনে খাওয়ানো হলো ১০৭৩ ট্যাবলেট!

রাজধানীর গ্রিন রোডে সোস্যাল ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হওয়া এক রোগীকে ৯ দিনে এক হাজার ৭৩টি ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে। এই ওষুধের বিল করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাসের কাজে অক্সিজেন ব্যবহার করা না হলেও রোগীর স্বজনদের এ বাবদ ২০ হাজার টাকা বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ।
বৃহস্পতিবার (২০ জুন) রাত সাড়ে ৯টা দিকে র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে দিকে শুরু হয় অভিযান। এই একই হাসপাতালে গত বছরও ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল।
সারওয়ার আলম বলেন, রোগীদের জিম্মি করে বাড়তি অর্থ আদায়, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসাপত্র দেওয়া ও ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর মতো নানা অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রিন রোডের সোস্যাল ইসলামিয়া ব্যাংক হাসপাতালে অভিযান চলছে।
হাসপাতালটিতে ভর্তি ওই রোগীর ছেলে শাকিল আহমেদ বলেন, ৭ জুন বিকেলে মায়ের হার্টের সমস্যা দেখা দেয়। খরচের কথা চিন্তা করে মাকে এই হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে ভর্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়নি। কোনো অপারেশনও করানো হয়নি। অথচ ৯ দিন পর আমাদের এক লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৪ টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো অপারেশন ছাড়াই এত খরচ দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি। পরে বিলের বিস্তারিত বিবরণ থেকে যা জানতে পেরেছি, তা দেখে আমরা রীতিমতো বাকরুদ্ধ।
তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে বিলের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে জানানো হয়, এই ৯ দিনে মায়ের ওষুধের বিলই প্রায় ৫০ হাজার টাকা (৪৯ হাজার ৩৪৫ টাকা)। আরও বলা হয়, এই সময়ে এক হাজার ৭৩টি ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন মাকে খাওয়ানো হয়েছে ১১৯টি ট্যাবলেট! শুধু তাই নয়, হাসপাতাল বলছে, মায়ের শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক আছে। কিন্তু বিলে অক্সিজেন বাবদ ২০ হাজার টাকা বিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিল করা হয়েছে এক লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৪ টাকা।
ওই রোগীর স্বজনরা জানান, মোট বিলের এক লাখ ৩২ হাজার টাকা এরই মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু রোগীকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দেয়নি।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাদের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর অপারেশ থিয়েটারে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল এই হাসপাতালেই।
পূর্বপশ্চিম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button