শিরোনামশীর্ষ সংবাদ

‘হামলাকারীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমেই জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে যোগাযোগ করেছে’

বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে উগ্র মতবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ার যে প্রবণতা তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্যে গভীরভাবে উদ্বেগজনক।
তারা বলছেন, এই প্রবণতা খুব নতুন কিছু নয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক সামরিক বাহিনীর সাবেক একজন কর্মকর্তা মেজর জেনারেল এম. মুনীরুজ্জামান বলেছেন, সমাজের উঁচু স্তরের পরিবারের সন্তানদের ভেতরে এবং বেশ কিছু নামী দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তরুণদের উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা বেশি চোখে পড়ছে।
“কিন্তু আগে ধারণা করা হতো যে শুধু মাদ্রাসার ছাত্ররাই উগ্র মতবাদের দিকে চলে যাচ্ছে,” বলেন তিনি।
এর কারণে হিসেবে তিনি সমাজের ভেতরে অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা ও দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থাকে দায়ী করেছেন।
তিনি বলেন, তরুণরা তাদের সামনে কোনো রোল মডেল বা আদর্শ ব্যক্তিকে খুঁজে পাচ্ছে না।
“মুক্তভাবে মত প্রকাশের সুযোগও আগের চেয়ে সঙ্কুচিত হয়ে এসেছে। আইনের শাসনের অভাবের কারণে তাদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে হতাশার।”
তিনি বলেন, এই হতাশার জায়গাগুলোকে চিহ্নিত করেই রিক্রুটাররা তরুণদেরকে জঙ্গি দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করে।
“রিক্রুটার তখন তাকে কাছে টেনে নিয়ে তার সেই হতাশার জায়গাগুলোতে কাজ করতে শুরু করে। আর তখনই ওই তরুণ জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ে,” বলেন তিনি।
বিশেষ করে ইন্টারনেটের কারণে এই তরুণদের উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা আরো বেড়েছে।
মুনীরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে তরুণদের সাথে রিক্রুটারদের যে যোগাযোগ হয় বেশিরভাগ ঘটনাতেই দেখা গেছে সেটা হয়েছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে।
গুলশান হামলায় জড়িত তরুণরাও ইন্টারনেটের মাধ্যমেই জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে জড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন মুনীরুজ্জামান।
“তারপর আস্তে আস্তে তারা একটি সেল গড়ে তুলেছে, ” বলেন তিনি।
তিনি বলেন, সমস্যা হচ্ছে এসব বিষয়ে অনেক দিন ধরেই বলা হচ্ছে। কিন্তু যারা এব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন তারা অনেক কিছু অস্বীকার করছেন।
“ফলে অনেক সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। এবং এখন এটা একটা সঙ্কটের পর্যায়ে চলে গেছে,” বলেন তিনি। বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button