হাতিয়ায় বন্যা পরবর্তী গ্রামীণ রাস্তাগুলো খানাখন্দকে চলাচলের অনুপযোগি

নিজস্ব প্রতিনিধি : হাতিয়ায় আমফান পরবর্তী বর্ষাকালীন সক্রিয় মৌসুমীবায়ুর প্রভাবে বৈরি আবহাওয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারের তীব্র স্রোতে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ সড়ক। এতে দ্বীপের ভুক্তভোগী মানুষের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ।
ঘূর্ণিঝড় আমফানে দ্বীপের নদীতীরবর্তী এলাকার দুর্বল বেড়িবাঁধগুলো উপচে পড়া জোয়ারের আঘাতে সহজে ধসে গিয়ে অনেক এলাকা প্লাবিত হয়ে ক্ষতি সাধন করে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বেড়িবাঁধগুলো পুনঃমেরামত না হওয়ায় প্রতি পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় বৈরি আবহাওয়াজনিত অস্বাভাবিক জোয়ারে নলচিরা, সূখচর, চরঈশ্বর, তমরদ্দি, সোনাদিয়া, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নসহ হরনী ও চানন্দী প্রশাসনিক এলাকার ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।
প্লাবিত এলাকার গ্রামীণ রাস্তাগুলোতে প্রচুর বড় বড় খানা খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টিতে এই গর্তগুলো পুকুরের আকার ধারণ করেছে। ফলে যাতায়াতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার অনেক জায়গায় বিশাল বিশাল খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। চরচেঙ্গা-তমরদ্দি সড়কটি পুরোটায় বিধ্বস্ত। রিক্সা, ভ্যান, মোটরসাইকেলের যাত্রীরা কাদা-পানিতে গাড়ি টেনে হিঁচড়ে গর্ত থেকে তুলছেন। মালামাল পরিবহনে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়ায় ব্যাহত হচ্ছে গ্রামীণ বাজার কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের চাকা। অন্যদিকে রাস্তার বেহাল দশায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
সোনাদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নের সাথে উপজেলা সদরের যোগাযোগের প্রায়ই রাস্তারই বেহাল দশা। জনস্বার্থে রাস্তা সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় এমপি আয়েশা ফেরদাউস ও উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীকে পিটিশন দিয়ে অবহিত করেছি।
একইভাবে নলচিরা ইউনিয়নের আফাজিয়া-দাসপাড়া ছয় কিলোমিটার পাকা সড়কটি অনেক জায়গায় বিশাল গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় দুর্ঘটনায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিভিন্ন গ্রামীণ বাজারের পণ্যবাহী ভ্যানগাড়ি চালকদের।
নলচিরা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিন জানান, এ সড়কে স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নিয়ে অনেকগুলো গর্ত ইটের কণা ফেলে ভর্তি করে সামান্য যান চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘একই চিত্র এ ইউনিয়নের তেমুহনী থেকে রামচরন বাজার পর্যন্ত সড়কে’।
এদিকে জোয়ারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সূখচর ইউনিয়নে। এই ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পাকা আধা-পাকা ও মেঠো রাস্তা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়েছে। জোয়ারের প্লাবিত হওয়ার পর থেকে গত তিন সপ্তাহ এই ইউনিয়নে কোন পণ্যবাহী গাড়ি আসা-যাওয়া করতে পারছে না বলে সূখচর ইউপি চেয়ারম্যান মো: কামাল উদ্দিন জানিয়েছেন।
চরঈশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিধ্বস্ত রাস্তাগুলোর মধ্যে তালুকদার গ্রাম সড়ক, আব্দুল হাই সড়ক, মাইচ্ছা মার্কেট সড়কসহ অনেক সড়ক ভেঙে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং জোয়ারের স্রোতে রাস্তা ভেঙে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের বন্দরটিলা-নামার বাজার প্রধান সড়কের উপর দিয়ে দুই ফুট উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় রাস্তার ইট কণা সরে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি মেরামত করা না হলে নিঝুমদ্বীপ হারাতে পারে পর্যটক সমাগম।
এব্যাপারে হাতিয়া উপজেলা প্রকৌশলী তপন চন্দ্র দেবনাথ জানান, জোয়ারে বিভিন্ন ইউনিয়নে যেসকল পাকা সড়ক সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে তা অগ্রাধিকারভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো মেরামতের জন্য খুব শীঘ্রই কাজ শুরু করতে পারবো বলে আশা রাখছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম বলেন, হাতিয়ায় সাম্প্রতিক জোয়ারের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলোর মধ্যে বর্তমান অর্থবছরের বাজেট থেকে অধিকতর জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো সংস্কারের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।




