হরিরামপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

জ. ই. আকাশ, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে বৈদ্যুতিক শটসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডে ৭টি দোকান ও ২টি ভ্রাম্যমান সবজির দোকানসহ ৯টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত ২৯ অক্টোবর (শনিবার) দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কুটিরহাট বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাত ৩ টার দিকে ফায়ার সার্ভিস এসে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে কুটিরহাট বাজারের জব্বার বেপারীর মুদি দোকানে বৈদ্যুতিক শটসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহুর্তেই আগুন আশেপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় রাজ্জাকের মিষ্টির দোকান, রেজাউলের সার ও কীটনাশকের দোকান, নিখিলের লন্ড্রী দোকান, তিহানের ইলেকট্রনিক্স, আনন্দ চন্দ্র রায়ের ইলেকট্রনিক্স, স্বপন শীল, হাবিবুর রহমান ও জব্বারের মুদি দোকান আগুনে পুড়ে গেছে। এছাড়াও ভ্রাম্যমাণ দুইটি সবজির দোকান পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডে সবমিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক আনন্দ চন্দ্র রায় জানান, “আমার ইলেকট্রনিক মালামাল, গ্যাস সিলিন্ডার ও অন্যান্য মালামাল এবং দোকানঘর সহ প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ব্যাংক ও এনজিও থেকে লোন নিয়ে ব্যবসা করছি। এখন সরকারিভাবে সহযোগিতা না পেলে আমাার পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।”
কাঁচামাল ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, “আমি রাস্তার পাশেই কাচামালের ব্যবসা করতাম। আগুনে আমার সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বৌ বাচ্ছা নিয়ে কোনোরকমে চলতাম। কিন্তু আগুনে পুড়ে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল পুড় গেছে।”
কাঞ্চনপুর ইউপি চেয়ারম্যান গাজী বনি ইসলাম রূপক বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে বাজারের ৭টি দোকান ও রাস্তার পাশে ২টি সবজির দোকান পুড়ে গেছে। এতে ব্যবসায়ীসহ দোকান মালিকদের প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন সরকারিভাবে সহযোগিতা না পেলে ব্যবসারীরা পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাক পড়বে।”
হরিরামপুর ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিভাতে সক্ষম হই।”



