হরিরামপুরে বিএনপির পদযাত্রায় হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ

হরিরামপুর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে বিএনপির পদযাত্রায় বাধা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার গালা ইউনিয়নের ঝিটকা গার্লস স্কুল মোড় ও ঝিটকা – গোপীনাথপুর ব্রিজ এলাকায় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায় বলে বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন। হামলায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের তিন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন । এছাড়া তিনটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেট কারের গ্লাস ভাংচুর করা হয়েছে বলেও দাবি বিএনপির ।
সমাবেশে যাবার পথে তিনটি মোটরসাইকেল ভাংচুর ও জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হকের প্রাডো গাড়ি ভাংচুর করে নেতাকর্মীরা। এসময় যুবদল নেতা শহিদুল শিকদার সোহেলের ঝিটকা বাজারের দোকানে হামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামিম আহমেদ বলেন, কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ঝিটকা বাজারে পদযাত্রা করতে না পেরে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবস্থান ধর্মঘট ও সমাবেশ করি। সমাবেশে আসার পথে ঝিটকা বাজার গার্লস স্কুল মোড় ও গোপীনাথপুর ব্রিজে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা হামলা করে। পদযাত্রা সফল করতে জেলা বিএনপির সিনিঃসহসভাপতি আতাউর রহমান আতা, সহ সভাপতি আব্দুল বাতেন, জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হক ঝিটকা আসলে প্রবেশ পথে হামলা করে। পদযাত্রা ও সমাবেশে হরিরামপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি হান্নান মৃূধা, জেলা বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন শিকদারসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান দুলাল বলেন, শান্তুিপূর্ন সমাবেশ করার জন্য হরিরামপুর উপজেলা চত্বরে পুলিশের অনুমতি চেয়েছি, তবে অনুমতি মেলেনি। পরে ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও চেয়েছিলাম, পুলিশ অনুমতি দেয়নি। আমরা ঝিটকা গরুর হাটে সমাবেশের ঘোষণা দিলে যুবলীগ সেখানে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা দিলে আমরা গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সমাবেশ করি। তবে সমাবেশে আসার পথে জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হকের গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান, সদস্য সচিব কামরুল হাসান ফিরোজ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকিন চৌধুরী রিফাত, সহ সভাপতি সোহাগ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শুভ মল্লিক, রিতান মোল্লা, গোপীনাথপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রাসেল হোসেনসহ ১৫-২০ জন হামলা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছেন। নাশকতা প্রতিহত করেছেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকিন চৌধুরী রিফাত দোকানে ভাংচুর ও হামলার বিষয় অস্বীকার করে বলেন, আমাদের তৎপরতায় বিএনপি নেতাকর্মীরা নাশকতা করতে পারেনি। নাশকতা ঠেকানো হয়েছে।
হরিরামপুর থানা ওসি সুমন কুমার আদিত্য বলেন, এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




