slider

হরিরামপুরে জমজমাট মাটির ব্যবসা, ধ্বংসের পথে কৃষি জমি

হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে চলছে জমজমাট মাটির ব্যবসা। অবাধে কাটা হচ্ছে ফসলি জমির মাটি। ফলে ধ্বংস করা হচ্ছে আবাদি কৃষি জমি। এসব মাটি বিক্রি হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। মাটি পরিবহনে ওভারলোডে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টর। ফলে অতিরিক্ত লোডে মাটি পরিবহনের কারণে নষ্ট হচ্ছে কাচা, ইটসোলিং ও পাকা রাস্তাসহ পার্শ্ববর্তী কৃষি জমি। উপজেলার চালা ইউনিয়নের কচুয়া, উত্তর মেরুন্ডী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর এলাকায় অবাধে চলছে ফসলি জমির মাটি কাটার হিড়িক । সন্ধ্যা থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা শুরু হয়ে ভোর পর্যন্ত মাটি কাটা ও পরিবহন চলে। রামকৃষ্ণপুরে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধের জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট অভিযোগ ও দিয়েছেন রজ্জব আলীসহ ভুক্তভোগী কয়েকজন গ্রামবাসী।
সরেজমিনে গেলে স্থানীদের সাথে আলাপকালে ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, রামকৃষ্ণপুর গ্রামে প্রায় দুইমাস ধরে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করে চলেছেন গালা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দুলাল সূত্রধর। তার মাটি পরিবহনে গত বছর সংস্কারকৃত রামকৃষ্ণপুর পাকা সড়ক থেকে নয়াকান্দি পর্যন্ত মাটির রাস্তা ধ্বংস প্রায়। স্থানীয় আবু তালেবের বসতবাড়ির উঠানের ওপর দিয়ে মাটি পরিবহনের গাড়ি চলাচলের কারণে বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আবু তালেবের স্ত্রী আমেনা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘‘সারারাত মাটি কাটার যন্ত্র ও গাড়ির শব্দে প্রায় দুইমাস যাবত রাতে ঘুমাতে পারি না। আমার বাড়িঘর নষ্ট হচ্ছে। মাটি কাটতে নিষেধ করলে লোকজন নিয়ে মারধোর করতে আসে, হুমকি দেয়।”
আমেনা বেগম আরও বলেন, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. কামাল হোসেন ও দুলাল সূত্রধর আমার দোয়ারের (উঠান) উপর দিয়ে মাটি নিচ্ছে ।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য কামাল হোসেন দাবি করে বলেন, আমি ফসলি জমির মাটি কাটার বিরোধী। আমি মাটি ব্যবসায়ী কেউ প্রমাণ দিতে পারবেনা। আমার বিরোধী পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে।
মাটি কাটার বিষয়ে দুলাল সূত্রধর বলেন, আগে কাটলেও গতকাল থেকে মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়েছি।
চালা ইউনিয়নের কচুয়া এলাকায় ফসলি জমির মাটি কাটছেন চালা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আব্দুল মজিদের ভাই কাজী বাদল এবং চালা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন মিলন।
কাজী বাদল বলেন, ‘‘আমার ভাই চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল মজিদের সাথে আমি ও মিলন মাটি কাটার সাথে আছি।”
সাখাওয়াত হোসেন মিলনও মাটি কাটার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করলেও মাটি কাটায় নিজে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে চালা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আব্দুল মজিদ জানান, “শুনছি আমার ছোট ভাই জড়িত। কিন্ত আমি নিজে জড়িত নই।”
চালা ইউনিয়নের উত্তর মেরুন্ডি এলাকায় ফসলি জমির মাটি কাটছেন চালা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত সদস্য মো. রবিউল ইসলাম রবি, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান ফিরোজ এবং সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম আরোজ। মুঠোফোনে মাটি কাটার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবি।
তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল গফ্ফার এঁর নিকট ফসলি জমি খননের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, “ফসলি জমি থেকে মাটি খননের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি জমিতে বাঁধ নির্মাণ, পুকুর খনন অথবা বাড়ি নির্মাণ করতে হলে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে। কেউ ইচ্ছা করলে তার জমি ভরাট করতে পারবে না আর ভেকু দিয়ে বালু মাটি উত্তোলন করার কোনো সুযোগ নেই। কৃষি জমি খননের ফলে মাটির ওপরের অংশ নষ্ট হয়ে যায়। যাকে আমরা টপ সয়েল বলি। আর এই টপ সয়েল যদি রক্ষা করতে না পারি, তাহলে অবশ্যই কৃষিতে বিপর্যয় ঘটবে।”
এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপসী রাবেয়া বলেন, ‘‘আমরা কয়েকবার স্পটে গিয়েছি। কিন্তু কাউকে উপস্থিত পাইনি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ” ফসলি জমির মাটি কাটা রোধে আমাদের অভিযান চলমান আছে।গতকালও উত্তর মেরুন্ডি গিয়েছিলাম, ওখানে কাউকে পাইনি। নিয়মিতই আমি আর এসিল্যান্ড অভিযানে যাই। কাউকে পাইনা। তবে দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button