সৌদি রাজপরিবারের ১৫০ সদস্য করোনায় আক্রান্ত!

সৌদি রাজ পরিবারের অন্তত দেড়শ সদস্য নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবর দিয়েছে শীর্ষ মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন রাজপরিবারের শীর্ষ সদস্য রিয়াদের গভর্নর প্রিন্স ফয়সাল বিন বান্দর বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ। তিনি এখন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন। রাজ পরিবারের ঘনিষ্ঠ দুজন সদস্য এই তথ্য জানিয়েছেন।
ছয় সপ্তাহ আগে দেশটিতে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী ধরা পড়ে। ইরান থেকে বাহরাইন হয়ে আসা এক ব্যক্তির শরীরে প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হয়। এখন সৌদি আরবে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪১।
আক্রান্তদের মধ্যে আছেন সম্প্রতি ইউরোপ ভ্রমণ বেশ কয়েকজন সৌদি প্রিন্স। এ ছাড়া রাজপরিবারের আরও বেশ কয়েকজনের মধ্যে করোনা উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
এদিকে সৌদি বাদশাহ সালমান নিজের রাজপ্রাসাদ ছেড়ে জেদ্দার লোহিত সাগর উপকূলে আরেকটি ভবনে উঠেছেন। রাজপরিবার থেকে নিরাপদ দূরত্বে রয়েছেন যুবরাজ সালমান এবং মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যও। তারাও নিজেদের বাসভবন ছেড়ে জেদ্দার দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করছেন।
দেশজুড়ে ‘ভিআইপিদের’ জন্য প্রস্তুত থাকতে মঙ্গলবার রাতে শীর্ষ চিকিৎসকদের প্রতি একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়। সেই নির্দেশনার এক কপি পেয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। রাজপরিবারের চিকিৎসার তদারকিতে থাকা কিং ফয়সাল হাসপাতাল এই সতর্কতা পাঠিয়েছে দেশটির শীর্ষ স্বাস্থ্য বিশেজ্ঞদের কাছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, আমরা জানি না কত আক্রান্ত রোগী আমরা পাব, কিন্তু আমাদের ‘সর্বোচ্চ প্রস্তুত’ থাকতে হবে। এ ছাড়া রাজপরিবারের কোনো কর্মী অসুস্থ হলে তাকে অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নিতে হবে, কিং ফয়সাল হাসপাতাল প্রস্তুত রাখতে হবে শুধু রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য।
সূত্র জানায়, সন্দেহভাজন করোনায় আক্রান্ত রাজপরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত অভিজাত হাসপাতালটিতে অতিরিক্ত ৫০০টি শয্যা প্রস্তুত করতে ব্যস্ততম সময় পার করছেন চিকিৎসকেরা।
এদিকে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী তৌফিক আল রাবিয়াহ মঙ্গলবার সতর্ক করে বলেছেন, সৌদিতে করোনা মহামারির প্রভাব মাত্র শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে কমপক্ষে ১০ হাজার থেকে দুই লাখ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। দেশজুড়ে সব মসজিদে নিয়মিত জামাত বন্ধ রয়েছে। মক্কায় কাবা শরিফে ওমরাহ ও মদিনায় মসজিদে নববীতে পরিদর্শন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে আগেই।
ইতিমধ্যে মক্কা, মদিনা, রিয়াদ, জেদ্দা শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতির শুরুতে একে একে সব ধরনের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।




