
মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি করতে গিয়ে নির্যাতিত হয়ে দলে দলে বাংলাদেশি নারী কর্মীর দেশে ফেরার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অান্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রোববার এক বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেন, প্রবাসে নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতন অভিবাসন খাতে সুশাসনের অভাবের দৃষ্টান্ত।
সরকার ও মন্ত্রণালয়ের এ ‘নিস্ক্রিয়তার’ সমালোচনা করেছে টিআইবি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিষ্ঠুর ও বর্বরোচিত নির্যাতন, প্রতারনার শিকার শতশত নারী দেশে ফিরে আসা একদিকে যেমন অভিবাসন খাতে সুশাসনের ঘাটতির দৃষ্টান্ত, অন্যদিকে এ ব্যাপারে দায়িত্বশীলদের নিষ্ক্রিয়তা হতাশাজনক ও নারী অধিকারের প্রতি সংবেদনশীলতার ঘাটতির পরিচায়ক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসী নারী কর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। দুঃখজনক হলেও সত্য, বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
দেশে ফিরে আসা এসব নারীর পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন টিআইবি পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় পর্যন্ত নারী কর্মী পাঠানো স্থগিত রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ সঙ্গে ‘কর্মজীবী নারী’ নামক বেরসরকারী সংস্থা’র সহ-সভাপতি উম্মে হাসান ঝলমল রেডিও তেহরানকে বলেন, সৌদি আরবের মতো এটি দেশে কাজ করতে গিয়ে নারীরা যে অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরে আসছে, তা একজন মুসলিম নারীর জন্য আতঙ্কজনক। তাছাড়া কোনো কোনো আরব দেশ শর্ত দিচ্ছে নারী শ্রমিক না পাঠালে তারা পুরুষ শ্রমিকও নেবে না- এটাও খুব লজ্জাজনক প্রস্তাব। সরকারকে এমন প্রস্তাবে রাজী হবার আগে নারীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে তার পর বিদেশে পাঠাতে হবে।
এ সকল অভিবাসী নারীর মাঝে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে উম্মে হাসান আরো জানান, গ্রামের অশিক্ষিত বা অল্প শিক্ষিত মেয়েদের কোনোরকম ভাষা বা কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়াই গোপনে দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। তাছাড়া সরকারীভাবে যারা যাচ্ছে তাদের ব্যাপারেও সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়, বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসকে পর্যাপ্ত তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার হয়ে গত মাসে দেশে ফিরেছেন ৩৮০ জন বাংলাদেশি নারী। চলতি বছরে পাঁচ শতাধিক নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন। তাদের অধিকাংশ শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার।
গত তিন বছরে প্রায় চার #হ
াজার নারী একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরেছেন। কিন্তু এসব ঘটনায় দায়ী রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিদেশের মাটিতে যারা বাংলাদেশি কর্মীদের নির্যাতন করেছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয় নি।
পার্সটুডে



