সেফটিপিনের চেইন বানিয়ে গিনেস রেকর্ডে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক

সংবাদদাতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : সেফটিপিন দিয়ে বিশ্বের দীর্ঘতম চেইন তৈরি করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখালেন বাংলাদেশি এক যুবক। এর মাধ্যমে ২০১৮ সালে করা ভারতীয় হার্শা নান ও নাভার রেকর্ডটি ভেঙে নতুন এই রেকর্ড গড়লেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার পার্থ চন্দ্র দেব (২৫)। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ডাকযোগে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের স্বীকৃতির সনদ হাতে পান বলে জানান পার্থ। তিনি উপজেলার ফান্দাউক গ্রামের জগদীশ দেবের ছেলে।
পার্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের বিএসএস (ডিগ্রি) শেষ বর্ষের ছাত্র। পাশাপাশি হবিগঞ্জের সাঙ্গবেদ সংস্কৃতি কলেজের ব্যাকরণতীর্থ ও স্মৃতিতীর্থ বিভাগেও পড়াশোনা করছেন তিনি।
পার্থ চন্দ্র জানান, পড়াশোনা ও পারিবারিক ব্যবসা সামলানোর পাশাপাশি নতুন কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন তিনি। গুগলে সার্চ করে জানতে পারেন, ২০১৮ সালে ভারতের গুজরাটে হার্শা নান ও নাভা নান নামে দুই যুবক ১৭৩৩.১ মিটার দৈর্ঘ্যের চেইন তৈরি করে গিনেস বুক রেকর্ডসে নাম লেখান। ওই রেকর্ড ভেঙে নতুন বিশ্ব রেকর্ডের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই থেকে কাজ শুরু করেন পার্থ। নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮২৩টি সেফটিপিন দিয়ে ২৪০১.৮৩ মিটার চেইন তৈরি করেন তিনি। চেইনটি তৈরিতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগে তার। সময়ের হিসাব করার জন্য সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ব্যবহার করেছেন পার্থ। প্রায় আড়াই কিলোমমিটার দীর্ঘ চেইনটি নিজ এলাকা ফান্দাউক শ্রী শ্রী পাগল শংকর মন্দির প্রাঙ্গণে প্রদর্শন করেন তিনি।
পার্থ বলেন, সত্যতা যাচাইয়ে দুজন সাক্ষী ও সার্ভেয়ারসহ অন্তত ১৪ ধরনের ডকুমেন্ট জমা দিয়েছি। চেইনটির দৈর্ঘ্য পরিমাপের সময় সাক্ষী হিসেবে হবিগঞ্জের লাখাই মুক্তিযোদ্ধা সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক রাজীব কুমার আচার্য ও ফান্দাউক পণ্ডিতরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পল্লব হালদার উপস্থিত ছিলেন। ফান্দাউকের স্বীকৃতপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ জরিপকারক (সার্ভেয়ার) তোফাজ্জল শাহ মারজান এই চেইন পরিমাপ করেন।
পার্থ দেবের এই মহতী অর্জনে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। বড় ভাই জয়ন্ত দেব ও ভাতিজি জয়শ্রী দেব বলেন, আমাদের মতো পরিবারের একজনের বিশ্বজয়ী প্রতিষ্ঠানের সনদ পাওয়া বিশাল ব্যাপার। আমরা জীবনেও কল্পনা করতে পারিনি এমন প্রাপ্তির। পার্থর নিরলস পরিশ্রমের ফসল এই রেকর্ড।
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী বলেন, এ অর্জন অত্যন্ত আনন্দের। এটি শুধু নাসিরনগরের গর্ব নয়, পুরো বাংলাদেশেরও গর্ব। ফেইসবুক-ইন্টারনেটের যুগে তার এমন ধৈর্য ও একাগ্রতা বর্তমান তরুণদের জন্য সত্যিই অনুসরণীয়।




