
মহাখালিতে অবস্থিত সেতু ভবনকে রাজধানীর বিষফোঁড়া উল্লেখ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, সেতু ভবন আমাদের জন্য বেদনাদায়ক একটি বিল্ডিং। এটিকে সরাতে হবে। এখানে কেন সেতু ভবন করা হলো? সেতু ভবনটি কে করলো?
মঙ্গলবার প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)তে অনুষ্ঠিত ‘নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ’ সদস্যদের ‘গণপরিবহণ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক রিপোর্টিং প্রশিক্ষন’র সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, মহাখালীতে ভবন নির্মাণ করে ঢাকা শহরের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সেতু ভবনটি মহাখালী থেকে স্থানান্তরিত করতেই হবে। এটি বাস্তবতা, এসব বাস্তবতা বলতেই হবে। বিজিএমইএ ভবন আমরা সরিয়েছি। এটিও সরাবো, আজ না হয় কাল।
মেয়র বলেন, সেতু ভবনের পাশের ২০ ফুট রাস্তা।
এই রাস্তায় এখনই লোড নিতে পারে না। যেখানে পূর্বাচলে ১০ লাখ লোকের বাস হবে। ওরা যদি ঢাকায় আসতে চায়, তখন কী অবস্থা হবে। বিল্ডিং করার জন্য অনেক জায়গা আছে। মূল সড়কে আর কোনো বিল্ডিং যাতে না করা হয়। এগুলো পরিকল্পনার ব্যাপার। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবসম্মতভাবে করতে হবে ।
আতিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নগরে যানবাহন চলাচলে রুট পারমিট দেয়। রুট পারমিট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংস্থাটি সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে না। বিআরটিএ বাস, ট্রাক থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি নেয়। এখন থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি’র একটি অংশ সিটি করপোরেশনকে দিতে হবে। কারণ সিটি করপোরেশনের রাস্তাগুলো মেরামতের জন্য বিআরটিএ কোনো ধরনের ফি দেয় না। বিআরটিএ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ফি’র একটি অংশ সিটি করপোরেশনকে না দিলে, গাড়ি চালকদের কাছ থেকে রাস্তা মেরামতের জন্য ফি আদায় করা হবে। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। গাড়ির মালিকরা নগরে গাড়ি চালায় আর ফি দেয় বিআরটিএ’কে। সিটি করপোরেশনের রাস্তার ওপরে গাড়ি চালালে রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়। সেই রাস্তা মেরামতের জন্য নিয়মিত সরকারের কাছে চিঠি লেখতে হয়। সরকার টাকা দিলে রাস্তা করবো, এটা হতে পারে না। নগরী গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহ, সহ-সভাপতি কামরুন্নাহার শোভা, সাধারণ সম্পাদক সোহেল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল খান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাসান ইমন, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক সাইদুল ইসলাম প্রমুখ।
সুত্র : মানবজমিন




