সুন্দরবন বিনাশী প্রকল্প বাতিল করুন : জাতীয় কমিটি

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত সরকার যৌথভাবে যুক্তিহীন, মানুষ ও প্রকৃতি বিধ্বংসী একগুঁয়েমী দিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনধ্বংসী রামপাল প্রকল্প নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। আর একারণে বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশ অচিরেই বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকা থেকে বাদ হয়ে যাওয়ার সমূহ আশংকা তৈরি হয়েছে। এর ফলে এর বিনাশে দেশি বিদেশি দুর্বৃত্ত গোষ্ঠীর তৎপরতা আরও সহজ হবে, বাংলাদেশ পুরো অরক্ষিত হয়ে পড়বে, দুদেশের উপক’লীয় অঞ্চলের প্রায় ৫ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে বিপদগ্রস্ত হবেন। তাই সরকারের উচিৎ হবে একগুঁয়েমী ত্যাগ করে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, বিশেষজ্ঞ মত ও ক্রমবর্ধমান জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অবিলম্বে রামপাল চুক্তি বাতিলসহ সুন্দরবনবিনাশী বনগ্রাসী সব তৎপরতা বন্ধ করা।
আজ এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ একথা বলেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “সুন্দরবন ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ তালিকা থেকে বাদ পড়ে গেলে বিশ^জুড়ে বিষয়টি এভাবে উপস্থিত হবে যে, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যারা প্রকৃতিপ্রদত্ত এক অসাধারণ সম্পদ ধরে রাখার যোগ্যতা রাখে না, এদেশের মানুষের সেই সক্ষমতা বা পরিপক্কতা নেই। বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার ধিকৃত হবে। সুন্দরবিনাশী বিদ্যুৎ প্রকল্প তাই শুধু দেশকে বিপর্যস্ত করবে না, বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক বিনষ্ট করবে এবং বিশ্ব দরবারে দুদেশের সরকারকে কলঙ্কিতও করবে। কাজেই সরকারের উচিৎ হবে একগুঁয়েমী ত্যাগ করে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, বিশেষজ্ঞ মত ও ক্রমবর্ধমান জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অবিলম্বে রামপাল চুক্তি বাতিলসহ সুন্দরবনবিনাশী বনগ্রাসী সব তৎপরতা বন্ধ করা। আর সেইসঙ্গে ‘সুন্দরবন নীতিমালা’ গ্রহণ করে এর বিকাশে সবধরনের উদ্যোগ গ্রহণ।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা আবারও সরকারকে ক্ষমতা ও মুনাফার অন্ধত্ব থেকে মুক্ত হয়ে চোখ খুলে সুন্দরবনের দিকে তাকাতে অনুরোধ করছি, এটি প্রকৃতির বিশাল সম্পদ, কাঠ বা জমি নয়। একইসঙ্গে দুদেশের সরকারের কাছে আবারও দাবি জানাচ্ছি রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবন বিনাশী সকল তৎপরতা বন্ধ করুন, দুর্বৃত্তদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করুন, সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে বাংলাদেশসহ দুদেশের উপক’লীয় অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষ ও সর্বপ্রাণকে বাঁচতে দিন। বাংলাদেশের মানুষ এই সর্বনাশ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।” তারা বলেন, ইউনেস্কো এর আগে বহুবার বৈজ্ঞানিক তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ দিয়ে সরকারকে সুন্দরবন বাঁচাতে এই প্রকল্প থেকে সরে আসার আহবান জানিয়েছে। কিন্তু দুইদেশের সরকার একগুঁয়েমী করতে থাকায় আজ থেকে শুরু হওয়া ইউনেস্কোর সভায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এরকম সিদ্ধান্ত গ্রহণের আশংকা দেখা দিয়েছে। সরকার কোনো যুক্তি না শুনে বারবার বলে যাচ্ছেন কোনো ক্ষতি হবে না। জনগণের অর্থ খরচ করে সরকারি নানাদল ইউনেস্কোকে বোঝানোর নাম করে ইউরোপে আনন্দ সফর করছে।



