sliderস্থানিয়

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপারসহ ১২ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নোটিশ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার,ইউএনও,এসিল্যান্ডসহ ১২ জন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন মামলা হবে না মর্মে নোটিশ দেবার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বিচারপতি ফাহমিদা আক্তার ও বিচারপতি আতিক হাসানের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

গত মঙ্গলবার(১৮ নভেম্বর) সুপ্রিমকোর্টে কনটেম্পট পিটিশন (নম্বর ৫০০ অব ২০২৫) জেলার তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলনে আদালতের আদেশ প্রতিপালন হয় নি দাবি করে রিট পিটিশন দায়ের করেন জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা মিয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা খুরশেদ আলম। এর পর আদালত আদেশ দেন।

সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা পিটিশনে উল্লেখ করা হয়,হাইকোর্ট বিভাগের ২০২৪ সালের ৯৯১৭ নং রিট পিটিশনে প্রদত্ত গত ১৯ আগস্টের আদেশের ইচ্ছাকৃত অবমাননার জন্য অবমাননাকারী বিবাদীদের বিরুদ্ধে অবমাননার মামলা রুজু করার জন্য বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদের অধীনে আবেদন দাখিল করা হয়েছে।

পিটিশনে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া,পুলিশ সুপার তোফায়েল আহম্মেদ,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পাল,রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর সোয়াদ সাত্তার চৌধুরী,তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান মানিক, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ডের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী মেরিনা দেবনাথ, তাহিরপুর এসিল্যান্ড শাহরুখ আলম শান্তুনু,সুনামগঞ্জ সদরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাতক চাকমা, তাহিরপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার প্রণয় রায়,তাহিরপুর থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন,বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি মুখলেছুর রহমানকে বিবাদী করা হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক জানিয়েছেন,যাদুকাটা নদীতে পাড় কাটা,ইজারাবিহীন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন রোধে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও নৌপুলিশ পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়াও গত ৩০ দিনে ৫৭টি অভিযান করেছে টাস্কফোর্স ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জানা গেছে,তাহিরপুর সীমান্তের বৃহৎ বালু মহাল যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ এবছর ১০৭ কোটি টাকায় ইজারা নেন শাহ্ রুবেল ও নাছির মিয়া নামের দুজন ইজারাদার। এরপর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ৬ মাসের জন্য ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করে। পরে পাড় না কাটা, ড্রেজার ও বোমা মেশিন দিয়ে বালু না তোলা পরিবেশ বিধ্বংসী কাজ করা যাবে না শর্তে আদালতের আদেশে তাদের কাছ থেকে রাজস্ব গ্রহণ করে জেলা প্রশাসন। এরপর ইজারাদারেরা রয়েলিটি আদায় শুরু করে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান,যাদুকাটা নদীতে কোনো অনিয়মকেই ছাড় দেয়া হচ্ছে না কঠোর ভাবে দমন করা হচ্ছে। তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ ও অন্যায় উদ্যোগ থেকে সকলকে বিরত রাখাসহ অপরাধীদের দণ্ড প্রধান করে আসছেন। নদীর পাড় কাটার চেষ্টা করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button