
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান একব্যক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে আমলাদের নিয়ন্ত্রণও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন তারা। মঙ্গলবার নাগরিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘কার্যকর-গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে করণীয়’ শীর্ষক অনলাইন গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ মত দেন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য এবং চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি প্রফেসর সিকান্দর খানের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন-এর নির্বাহী সদস্য এবং স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ। তোফায়েল আহমেদ তার প্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন নানা কারণে জটিল, ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া, বর্তমান স্থানীয় সরকার কাঠামো গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা চর্চার অনুকূল না হওয়ায় একদিকে যোগ্য নেতৃত্ব বিকাশে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারছে না, অপরদিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা চর্চায় থাকছে না যুগোপযোগী ভারসাম্য। প্রতিষ্ঠানগুলো হয়ে পড়ছে এক ব্যক্তি তথা চেয়ারম্যান বা মেয়র সর্বস্ব এবং আমলা নিয়ন্ত্রণ দিন দিন বাড়ছে। মেয়র ও চেয়ারম্যান নির্বাচন অতিমাত্রায় ব্যয়বহুল।
সদস্য ও কাউন্সিলর নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে গুরুত্বহীন। তাই আমাদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাঠামোকে সংস্কার করে নির্বাচন পদ্ধতির সহজীকরণ এবং সাংগঠনিক কাঠামোকে ভারসাম্যপূর্ণ করা প্রয়োজন। বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের গভীর মনোযোগ দাবি করে। তিনি স্থানীয় সরকার সংস্কার প্রসঙ্গে বলেন, সকল নির্বাচন একটি একক তফসিলে করা সম্ভব।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বর্তমান স্থানীয় সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের বর্ধিত অংশ মাত্র। ঐ অবস্থা থেকে আমরা খুব একটা অগ্রসর হইনি। আমাদের সংবিধান একটা প্রায়োগিক দলিল। কার কী দায়িত্ব বলা আছে। আমাদের কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় সরকার। স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব পরিষ্কার বলা আছে। আইন যখন করবে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমেই স্থানীয় পর্যায়ে কাজ হওয়া দরকার। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, লোকাল বডির ইলেকশন নষ্ট হওয়া শুরু হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে উপদেষ্টা করার পর থেকে। এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নমিনেশন পাওয়ার জন্য টাকা পয়সার খেলা শুরু হয়ে গেছে। এটা করার উদ্দেশ্য ছিল পুরো সিস্টেমকে কন্ট্রোল করা, করতে পারছেনও। সুতরাং পুরো সিস্টেম না বদলানো হলে এগুলো সমাধান করা সম্ভব না। গোলটেবিল বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টি-জেপি’র কেন্দ্রীয় নেতা শেখ শহীদুল ইসলাম, সাবেক সচিব আবদুল লতিফ মণ্ডল, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিনিধি ফিরোজ আহমেদ, রাজনীতিবিদ রাজেকুজ্জামান রতন, বিশিষ্ট সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, লেখক ও কলামিস্ট এম.এস সিদ্দিকী, সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। এ ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, সুজনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মুসবাহ আলীম, ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, সুজনের জাতীয় কমিটির সদস্য একরাম হোসেন, সুজন রংপুর জেলা কমিটির সদস্য ফখরুল আনাম বেঞ্জু প্রমুখ।




