আইন আদালতশিরোনাম

সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করেন ওসি প্রদীপ

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও বেঁচে ছিলেন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। কিন্তু ঘটনার পর টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিকভাবে পা দিয়ে চেপে ধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়া মেজর নিশ্চিত করে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিবেদনে এমনটিই উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল সংসদ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বহুল আলোচিত সিনহা মো. রাশেদ খানের হত্যাকাণ্ডের ‘সর্বশেষ’ তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান, মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, মো. মোতাহার হোসেন, মো. নাসির উদ্দিন, মো. মহিবুর রহমান ও বেগম নাহিদ ইজাহার খান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে সিনহা হত্যাকাণ্ডের একটি প্রতিবেদন দিয়েছে সেনাবাহিনী। প্রতিবেদনটি নিয়ে আলোচনা শেষে ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছে কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেকনাফ থানার আওতাধীন মেরিন ড্রাইভ এলাকায় শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে গত ৩১শে জুলাই ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী কর্তৃক গুলিবর্ষণে বিএ-৬৯৩১ মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান আহত হন।
এর আগে গাড়ি থামিয়ে সিনহা পরিচয় প্রদান করলে প্রথমে তাদেরকে যাওয়ার জন্য সংকেত দিলেও ইন্সপেক্টর লিয়াকত তাদের পুনরায় থামায়। এরপর তাদের দিকে পিস্তল লক্ষ্য করে গাড়ি থেকে নামতে বলে। গাড়িতে থাকা সিফাত হাত উঁচু করে গাড়ি থেকে নেমে পেছনের দিকে চলে যায়। গাড়ি থেকে হাত উঁচু করে নামার পরপরই ইন্সপেক্টর লিয়াকত খুব কাছ থেকে সিনহাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। ঘটনার আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিকভাবে পা দিয়ে চেপে ধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়া সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ওসি প্রদীপ কুমার দাস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত সিনহার আহত দেহ ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল এবং তিনি জীবিত ছিলেন। এরপর একটি পিকআপ সহকারে সিনহাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বাভাবিক সময়ে উক্ত দূরত্ব অতিক্রমে এক ঘণ্টা সময় লাগলেও অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ করে সিনহাকে বহনকারী পিকআপ হাসপাতালে পৌঁছায়। এ ছাড়া সিনহার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কক্সবাজারের এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন-এর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। তিনি ঘটনার তদন্তের শুরু থেকেই অসহযোগিতা ও বাধা প্রদান করে আসছেন বলে জানা যায়। কমিটি সূত্র জানায়, সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেনাসদস্যদের পক্ষ থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মাধ্যমে একটি যৌথ তদন্ত আদালত গঠন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক করে গঠিত ৪ সদস্যের যৌথ তদন্ত কমিটি গত ৭ই সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এ ছাড়া সিনহা হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটনের নিমিত্তে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত আদালত গঠিত হয়েছে। যার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে কমিটিকে জানানো হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button