সিংগাইর এলজিইডি’র সার্ভেয়ার যখন উপ-সহকারী প্রকৌশলী

সিংগাইর প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা এলজিইডি অফিসের সার্ভেয়ার আব্দুল মালেক পালন করছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্ব।
একাধিক প্রকৌশলী থাকা সত্ত্বেও সার্ভেয়ার মালেকের দাপটে অন্যরা কোনঠাসায়। তার তত্ত্বাবধানে চলছে প্রায় ডজন খানেক ব্রীজ ও একাধিক রাস্তার সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজ।
চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর পরিবর্তে সার্ভেয়ার আব্দুল মালেককে বেশিরভাগ কাজের সুপারভিশন অফিসার করা হয়েছে।
স্কীম তথ্য বোর্ডেও সার্ভেয়ারকে দেখানো হয়েছে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিজ্ঞ মহলে চলছে গুঞ্জন। সেই সাথে কাজের গুণগত মান নিয়েও ওঠেছে নানা প্রশ্ন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে আব্দুল মালেক সার্ভেয়ার হিসেবে সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশল অফিসে যোগদান করেন।
এরপর থেকে উপজেলা প্রকৌশলীর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে বৃহত্তর ঢাকা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৩ ও ৪ এর আওতায় প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে পিএসসি আরসিসি ব্রীজ,গার্ডার ব্রীজ এবং স্লাব ব্রীজসহ বেশিরভাগ কাজের তদারকির দায়িত্ব পান তিনি।
তার অধীনে চলমান প্রকল্পগুলো হচ্ছে, সিংগাইর-মানিকনগর-সিরাজপুর সড়কের পৌর এলাকার নয়াডাঙ্গী ২টি, ঝিগাতলা ১টি, সায়েস্তার বান্দাইলে ১টি, মানিকনগর-বাস্তা সড়কের জামির্ত্তায় ১টি, চান্দহর নদীর ওপর ১টি, ধল্লার খাসেরচরে ১টি ও হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পার্শ্ব রাস্তার সংযোগ সড়কের জায়গীর, ভূমদক্ষিণ, দেওলী ও বাইমাইলে একটি করে ৪টি ব্রীজ। এছাড়া বকচর ঋষিপাড়া থেকে পারিল নওয়াধা সড়ক সংস্কার, চারিগ্রাম থেকে গোলাইডাঙ্গা বাস্তা সড়ক সংস্কারেও অনিয়মসহ নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগ রয়েছে ।
আর প্রতিটি প্রকল্প থেকে বরাদ্দকৃত টাকার ২% সার্ভেয়ারকে দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। আর এ জন্যই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা পাচ্ছেন বাড়তি সুবিধা।
সরেজমিন দেখা যায়, জামির্ত্তার ব্রীজের জন্য পাইলিং ভাঙ্গা ব্যবহৃত পাথর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এছাড়া থিকনেস, সিলেকশন বালু, সিমেন্টের পরিমাণ কম দেয়া, তিন ফুটের স্থলে নামে মাত্র সোল্ডার দেয়া, প্রকল্প স্থানে তথ্য বোর্ড না লাগানোসহ নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে চলছে প্রকল্পগুলোর কাজ।
ঝিগাতলা, জামির্ত্তা ও জায়গীর ব্রীজের কোনো স্কীম তথ্য বোর্ড লাগানো হয়নি।
একই সাথে এতগুলো প্রকল্পের সুপারভিশন অফিসার হিসেবে দায়িত্বপালন করতে গিয়ে সার্ভেয়ার আব্দুল মালেক সহযোগী হিসেবে ইলেকট্রিশিয়ান মোয়াজ্জেম হোসেন ও এলসিএস (লেবার কন্ট্রাক সোসাইটি) সুপারভাইজার সৌরভকে কাজে লাগিয়েছেন।
মোয়াজ্জেম হোসেন নিজেকে সাইট ইঞ্জিনিয়ার দাবী করে কাজগুলো তদারকি করছেন। বিনিময়ে তারাও পাচ্ছেন বাড়তি সুবিধা। এলজিইডি অফিসে কর্মরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী, কার্য সহকারী ও অন্যদের মধ্যে এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ প্রসঙ্গে আব্দুল মালেক প্রথমে নিজেকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী স্বীকার করে পরক্ষণেই বলেন, আমার পদ-পদবী সব জায়গায়ই সার্ভেয়ার।
উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার তার কাজ তোলার জন্য কার্য সহকারী, ইলেকট্রিশিয়ান ও কম্পিউটার অপারেটরসহ সবাইকে নিয়েই করেন। ২% কমিশন গ্রহণের কথা অস্বীকার করে তিনি আরো বলেন, আমরা কোনো নিম্নমানের কাজ অ্যালাও করি না।
এলজিইডি অফিসে কর্মরত একাধিক উপ-সহকারী প্রকৌশলী বলেন, অনেকগুলো কাজই সার্ভেয়ার আব্দুল মালেকের নামে। আশীর্বাদপুষ্ট হলে যা হয়।
আমাদের নামেও দু’একটা করে কাজ আছে। এছাড়া আব্দুল মালেক সম্পর্কে তারা আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিষয়গুলো নিয়ে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকেও জিজ্ঞেস করতে বলেন তারা।
সিংগাইর উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন, আব্দুল মালেক পোস্টে একজন সার্ভেয়ার হলেও নিয়মের মধ্যেই উনি কাজ করছেন।
আমার জনবল সমস্যা ও কাজের চাপ বেশি থাকলে যে কাউকে ইঙ্গিত করতে পারি। ইলেকট্রিশিয়ান ও এলসিএস দিয়ে কাজ তদারকির বিষয়ে তিনি আরো বলেন, তাদেরকে সেভাবেই গড়ে তুলেছি।
আমরাও সাথে থাকি। ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন গ্রহনের কথা তিনি অস্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফয়জুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আপনার এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি না।
তবে কাকে দিয়ে প্রকল্পের সুপারভিশন করাবেন সেটা উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্ব।




