সিংগাইরে মামলা-হামলার শিকার হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে অনেক পরিবার
মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা: সিংগাইর উপজেলার জামশা ইউনিয়নের দক্ষিণ জামশা গ্রামে মামলা-হামলার শিকার হয়ে সন্ত্রাসী ও পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন একাধিক পরিবারের সদস্যরা। ইতিমধ্যে ওই গ্রামের মজনু (৩০) সন্ত্রাসীদের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় হাজত বাস করছেন। দু’জন জামিনে থাকলেও বাকীরা রয়েছেন এলাকা ছাড়া।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দক্ষিণ জামশা গ্রামের রমজান আলীর পুত্র রুবেলের বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ছিল। রাত ১০টার দিকে পার্শ্ববর্তী মসজিদের মাঠে আফসার মোলর পুত্র স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী মিঠুনের (২৫) সঙ্গে আবুল কালামের পুত্র সাকিলের(২০) ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে সাকিল তার জীবন রক্ষার্থে দৌড়ে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। মিঠুন ও আরিফ দলবল নিয়ে সাকিলের ওপর হামলা চালায় এবং বেধড়ক মারধর করে। বিয়ে বাড়ির লোকজন এর প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা শুরু হয়। চারদিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অনুষ্ঠানটি পন্ড হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, রুবেলের দক্ষিণ জামশা বাজারে রুপসা মটরস অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স নামে একটি টিভি ফ্রিজের শো-রুম আছে। বিয়ের ব্যস্ততার কারণে শো-রুমটির দায়িত্বে ছিল চাচাতো ভাই আলীরাজ। উক্ত ঘটনার জের ধরে ৩০ জুলাই রাত ৯ টার দিকে পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী মনির হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে আলীরাজ রুবেলের মোটর সাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে জোড়া খাম্বার নিকট পৌঁছলে মিঠুন ও আরিফ মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে তাদের বেধড়ক মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে মিঠুন আলী রাজের হাতে থাকা সারাদিন বিক্রির নগদ ১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় এবং মোটর সাইকেলসহ আলীরাজ ও মনিরকে নদীতে ফেলে দেয়। স্থানীয়রা ওই রাতেই নদী থেকে মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিঠু মিমাংসার আশ্বাস দিলে মামলা থেকে বিরত থাকে রুবেলের পরিবার। এদিকে পরদিন সকাল ১১ টার দিকে আরিফ (২৪), মিঠুন (২৫), ফজল (৪২), লালমিয়া (৩৮), আফসার মোল্লা (৫০), মিলন (২৪) ও রাজা মিয়াসহ (৪৫) অজ্ঞাত ২০/২৫জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রমজান আলী ও তার আশপাশের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট ও ভাংচুর করে। এতে ঘটনাস্থলে ৭জন আহত হয়। আহতরা হলেন- মিন্টু (২৬), সোনামুদ্দিন (৬৫), শরৎ (৪৫), মজনু (৩৫), পলাশ (২৮), রুবেল (২৬) ও রাজ্জাক (৪৫)। এদের মধ্যে মিন্টু ও সোনামুদ্দিনকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকাস্থ পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে, হামলাকারীদের মধ্যে ফজলুল হক ও মিলন নামের দু’জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় হযরত আলী (৫৫), মজিবর রহমান (৪২), হাশেম আলী (৬৫), বাদশা মিয়া (৭০) ও নরেশ চন্দ্র রায় (৬৫) জানান, রমজানের পরিবারটির ওপর শুধু মারধরই নয় মিথ্যা ঘর পোড়া ও সাঁজানো মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। সেই সাথে এলাকার কিছু লোকজনকেও মামলায় ফাঁসিয়ে এলাকা ছাড়া করেছে। এতে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের ভয়ে ওই গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবারগুলো পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী রমজান আলী জানান, আমার ৩পুত্রসহ প্রতিবেশী ৭জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও পুলিশ উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা নিয়ে ৩জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। আমাদের পক্ষ থেকে মামলা করা হলেও গ্রেফতার তো দূরের কথা নথিভুক্ত করতেই পুলিশ বিভিন্ন অজুহাতে তালবাহানাক্রমে ১০ দিন সময় পার করে দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি হাসমত আলীর নেতৃত্বে এ গ্রামে গড়ে ওঠেছে সন্ত্রাসী বাহিনী। তার নেতৃত্বেই আরিফ ও মিঠুন চুরি ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড ও মাদকের রমরমা ব্যবসা করে বেড়াচ্ছেন। পুলিশ প্রশাসন জেনেও না জানার ভান করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ সন্ত্রাসীদের অপকর্ম থেকে রেহাই পেতে সংশ্লিষ্ট উধর্ক্ষতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। মিঠুন ও আরিফ সম্পর্কে অভিযুক্ত হাসমত আলী বলেন, চুরি ডাকাতির কাহিনী বলতে পারব না। নেশা করে সত্য। গ্রাম্য সম্পর্কের আত্মীয় ছাড়া তাদের সাথে আমার অন্য কোন সম্পর্ক নেই। জামশা ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিঠু বলেন, প্রকৃতপক্ষে ভুক্তভোগী রমজান আলী ও তার পরিবারের লোকজন নিরীহ ও নিঃসন্দেহে ভদ্রলোক। অপরপক্ষ মিঠুন ও আরিফ গং এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে সঙ্গে জড়িত। পুলিশ কিভাবে যে রমজান আলীর লোকদের হয়রানি করছে এটা আমার বোধাগম্য নয়।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ওসি মোঃ সৈয়দুজ্জামান বলেন, কেউ থানায় কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। দু’পক্ষই কোর্ট মামলা করেছে। মামলা ৩টি রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেব।




