
সিরাজুল ইসলাম, সিংগাইর : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কাইচ থোর ও আধা পাঁকা বোরো ধানে ব্লাস্ট ও ছত্রাক রোগ দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকদের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। জীবন জীবিকার অন্যতম অবলম্বন ধানের ক্ষেতে দেখা দিয়েছে নেক ব্লাস্ট ও পাতা ব্লাস্টসহ ছত্রাকের পাদুর্ভাব । ধানের চারা অবস্থা থেকে ধান পাকার আগ পর্যন্ত যে কোনো সময় এ রোগটি হতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের গোপালনগর,জামির্ত্তা ইউনিয়নের রামকান্তপুর, মধুরচর ও চন্দননগর চকে ব্রি-২৯ জাতের ধানের ক্ষেতে গত কিছুদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে এ রোগ। কৃষকদের সাথ কথা জানা গেছে ইতিমধ্যে ৩ থেকে ৪’শ বিঘা জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে ।
এ রোগে ধানের শীষ বের হওয়ার পর শুকিয়ে চিটা হয়ে যায়। যেসব জমিতে অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ও মাটিতে পানি ধারন ক্ষমতা কম, সাধারনত বেলে দু’আঁশ মাটিতে চাষ করা ধান ক্ষেতে রোগটি বেশি দেখা যাচ্ছে। বীজ, বাতাস, কীটপতঙ্গ ও আবহাওয়ার মাধ্যমেও এ ছত্রাক ছড়ায়। রাতে ঠাণ্ডা, দিনে গরম ও সকালে পাতলা শিশির জমা হলে এ রোগের দ্রুত বিস্তার ঘটে । এ রোগ তিনটি নামে পরিচিত পাতা ব্লাস্ট, গিট ব্লাস্ট ও নেক/শীষ ব্লাস্ট। তবে এ অঞ্চলে পাতা ব্লাস্ট ও গিট ব্লাস্ট বেশি দেখা যাচ্ছে ।
গোপালনগর গ্রামের কৃষক, আঃ সালাম বলেন, ২ পাখি জমিতে ২৯ ধানের চাষ করেছি। কয়েকদিন আগে বৃষ্টির পর হঠাৎ আমার জমির ধানের সমস্ত পাতা পুরে যাওয়ার মতো হয়ে গেছে। জামির্ত্তা ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামের কৃষক চান মিয়া বলেন, আমি ৪ বিঘা জমিতে ধান করেছি, জমিতে গেলে চোখে পানি চলে আসে । কাইচ থোর ধান কিন্তু দেখা যায় পাকা ধানের মতো। টান গোপালনগর গ্রামের আরেক কৃষক বলেন, আমি ৩ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। এতদিন ভালই ছিল কিন্তু হঠাৎ দেখি ধানের পাতায় ডিম্বাকৃতির ছোট ছোট ধূসর ও সাদা বর্ণের দাগ দেখা যাচ্ছে। দাগগুলোর চারদিক গাঢ় বাদামি বর্ণের ও মাঝে মাঝে পুড়ে যাওয়ার মতো মনে হয়। পরে আমি উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অসীম কুমার সরকারকে বিষয়টি বলি। তিনি জমি দেখে জমিতে ব্লাস্ট ও পাতা মোড়ানো রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানান। পরে আমাকে সাকসেস ও ট্রুপার নামের ২ টি কীটনাশক স্প্রে করতে বলেন।
এ ব্যপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. হাবিবুল বাশার চৌধুরী বলেন, চলতি বছর এ উপজেলায় ৮ হাজার ৭’শ ২১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বেলে-দুআঁশ মাটির আল্প কিছু জমিতে ব্লাস্ট ও ছত্রাকের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে উপ সহকারী কৃষি অফিসারদের দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যথাযথ কীটনাশক স্প্রে ও আক্রান্ত জমিতে পানি ধরে রাখলে দ্রুত এ সমস্যা কেটে যাবে।




