sliderআন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

সাহিত্যে নোবেল পেলেন দক্ষিণ কোরিয়ার হান কাং

এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার লেখিকা হান কাং। তীব্র কাব্যিক গদ্য- যা মানুষকে ঐতিহাসিক মানসিক ক্ষতের মুখোমুখি দাঁড় করায় এবং মানব জীবনের ভঙ্গুরতা প্রকাশ করে, তার জন্য তাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে। নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেখালেখিতে হ্যান কাং ঐতিহাসিক মানসিক ক্ষত এবং নিয়মের অদৃশ্য অবস্থানের মুখোমুখি হন। তার প্রতিটি কাজে মানবজীবনের ভঙ্গুরতা ফুটে ওঠে। দেহ এবং আত্মা, জীবিত এবং মৃতের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে তার এক অনন্য সচেতনতা আছে। তার কাব্যিক এবং পরীক্ষামূলক ধারা হয়ে উঠেছে সমসাময়িক গদ্যের উদ্ভাবক। হান কাংয়ের বয়স ৫৩ বছর। ১৯৯৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সাময়িকী ‘লিটারেচার অ্যান্ড সোসাইটি’তে একগুচ্ছ কবিতা প্রকাশের মধ্যদিয়ে তিনি লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটান। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয় তার ছোট গল্পের সংকলন। তারপর থেকে তিনি দীর্ঘ গদ্য লেখা শুরু করেন। তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বই ‘দ্য ভেজিটারিয়ান’। এটি সহ তার অনেক বই ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায় রূপান্তরিত হয়েছে। ২০১৬ সালে ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার জেতে তার উপন্যাস ‘দ্য ভেজিটারিয়ান’। এতে তিনি মানুষের নিষ্ঠুরতা নিয়ে আতঙ্কে ভুগতে থাকা এক তরুণীর ‘বৃক্ষের মতো’ বেঁচে থাকার চেষ্টার কথা তুলে ধরেছেন। হান কাংয়ের জন্ম দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়াংঝু শহরে ১৯৭০ সালে। তার ৯ বছর বয়সের সময় পরিবার সেখান থেকে চলে যায় সিউলে। তার পরিবার সাহিত্যের ব্যাকগ্রাউন্ডের। তার পিতা ছিলেন একজন বিখ্যাত উপন্যাসিক। হান কাং লেখালেখির পাশাপাশি নিজেকে আর্ট এবং মিউজিকে নিবেদিত করেছেন। তার পুরো সাহিত্যকর্মে এর প্রতিফলন ঘটেছে। তার লেখা ‘দ্য ভেজিটারিয়ান’ তিনটি অংশে লেখা হয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালে নরওয়ের লেখক ও নাট্যকার জন ফস সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। তিনি তার ‘উদ্ভাবনী নাটক ও গদ্যের’ জন্য নোবেল পুরস্কার পান, যা অপ্রকাশিত অনুভূতিগুলোর কণ্ঠ দেয়।

সাহিত্যের নোবেল পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরুষপ্রধান হওয়ার একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ১৭ জন নারী এই পুরস্কার পেয়েছেন। হান কাং-এর আগে সর্বশেষ নারী বিজয়ী ছিলেন ফ্রান্সের অ্যানি এরনো। যিনি ২০২২ সালে সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন।

নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) নগদ পুরস্কার দেওয়া হয়।

এ পুরস্কারটি ১৯০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১১৬ বার দেওয়া হয়েছে, যা সুইডিশ উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের উইল থেকে প্রাপ্ত। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ ডিসেম্বর তুলে দেওয়া হবে। যার সঙ্গে বিজয়ীদের একটি মেডেলও দেওয়া হবে। সূত্র: আল জাজিরা

উল্লেখ্য, আজ শুক্রবার ঘোষণা করা হবে নোবেল পুরস্কারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট। আজ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে নোবেল কমিটি। ১৯০১ সাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নোবেল দেয়া হচ্ছে। এ পুরস্কারটির নামকরণ করা হয়েছে সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নাম অনুসারে। ঊনবিংশ শতকের এই বিজ্ঞানী শক্তিশালী বিস্ফোরক ডিনামাইট আবিষ্কার করে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছিলেন। তিনি উইল করে গিয়েছিলেন যে তার যাবতীয় অর্থ থেকে যেন প্রতি বছর পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। ১৯৬৯ সাল থেকে এই পাঁচ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনীতিও। এবারে নোবেলজয়ী পাবেন একটি নোবেল মেডেল, একটি সনদপত্র এবং ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর অর্থমূল্য প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। যেসব বিভাগে একাধিক নোবেলজয়ী থাকবেন, তাদের মধ্যে এই অর্থ সমান ভাগে ভাগ করে দেয়া হবে।
সূত্র: আল জাজিরা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button