সালথায় প্রধানশিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁসসহ অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ৬১নং কাঠিয়ার গট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাদিজা আক্তার রিনার বিরুদ্ধে চলতি বছরের বার্ষিক পরিক্ষার প্রশ্ন ফাঁস সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। খাদিজা আক্তার স্থানীয় মিয়ার গট্টি এলাকার আব্দুল হালিম খানের মেয়ে এবং জেলার সদর উপজেলার শোভারামপুর এলাকার বাসিন্দা।
জানা যায়, প্রধান শিক্ষক খাদিজা আক্তার রিনা ১/১০/১৯৯৬ তারিখে স্কুলে যোগদান করেন। বিদ্যালয়ের কাছাকাছি বাড়ি ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বিদ্যালয় সরকারি করনের পর থেকেই নানা অনিয়ম ও দূর্নীতিতে জড়িয়ে পরেন। তার অনিয়ম ও দূর্নীতি নিয়ে কয়েক দফা শালিস বৈঠক ও তদন্ত হয়েছে। কিছুদিন চুপচাপ থেকে আবারও দূর্নীতি ও অনিয়মে জড়িয়ে পরেন। স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা জানলেও অনিয়মের কোন প্রতিবাদ করেন না। নিজের কাজের সুবিধার্থে দুইএকজন শিক্ষককে নিয়ে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী বলয়।
সম্প্রতি বার্ষিক পরিক্ষা চলমান, উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র একই। পরিক্ষার বেশ কয়েকদিন আগেই প্রশ্নপত্র প্রতিটি বিদ্যালয়ে পৌছে যায়। প্রশ্নপত্র প্রধান শিক্ষক তার নিজ দায়িত্বে গোপনে সংরক্ষন করেন, তবে খাদিজা আক্তার রিনা পরিক্ষার আগেই প্রশ্ন পত্র তার পছন্দের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে দায় এড়াতে পরবর্তীতে ব্লাকবোর্ডে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পশ্নপত্র লিখে দেন যা শিক্ষার্থীরা খাতায় লিখে নেয়। এই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হওয়ায় নিজের সুবিধামত স্কুলে আসেন, স্কুলের চাবি তার কাছেই রাখেন। স্কুলে আসতে দেড়ি হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বাইরে দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। স্কুলে ক্লাস চলাকালিন সময়ে তিনি লুডু খেলেন ও মোবাইলে সময় ব্যয় করেন আবার কখন চেয়ারে বসেই ঘুমিয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীদের দিয়ে নিজের থালা বাসুন পরিস্কার এমনিক টয়লেট পরিস্কারও করান। শিক্ষার্থীরা ইচ্ছা না থাকলেও এই সকল কাজ করতে বাধ্য হয়। বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মানে প্রায় তিন বছরের অধিক সময় লাগে, এই সময়ে রুটিন ও স্লিপের টাকা সঠিকভাবে খরচ না করে আত্মসাৎ করেন তিনি। তাছাড়া পুরাতন ভবনের বিভিন্ন মালামাল ও স্কুলের বই গোপনে বিক্রি করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। এর আগে সনদের কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহন করেন বলে জানা যায়।
উপজেলা প্রথমিক শিক্ষক সমিতির এক নেতা বলেন, উনার পূর্বে অনেক অনিয়ম আছে আমরা অনেকবার সর্তক করেছি। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সাথে অনেক সময় খারাপ ব্যবহার করেন। আগে অনেক অনিয়মের শালিস মিমাংসা হয়েছে বিদ্যালয়ের সভাপতি জাকির হোসেন চান মিয়া ও এলাকায় সবাই জানে। আমরা চাই সচ্ছলতার জন্য তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আসা উচিৎ।
এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি জাকির হোসেন চান মিয়া বলেন, এমন কোন বিষয় হলে অবশ্যই উনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিক খাদিজা আক্তার রিনা বলেন, প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি অসম্ভব, তবে আমার আসতে দেড়ি হলে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা দাড়িয়ে থাকে। আপনি আমার ছোট ভাইয়ের মত, বড়বোনের বিরুদ্ধে নিউজ করলে বিষয়টি লজ্জাকর। এসময় তিনি ব্যাংকে আছেন বলে জানান এবং সামনাসামনি কথাবলার কথা বলেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমান বলেন, পূর্বের বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হবে এবং বর্তমান বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




