
পতাকা ডেস্ক : জাতিসংঘ ঘোষিত সার্বজনীন মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষর করলেও এই সনদের কোন নীতিই বাংলাদেশের বর্তমান অবৈধ স্বৈরাচারী সরকার মানছেনা বলে অভিযোগ করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। শুধু তাই নয় মানবাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ের ২৬-৪৭ক নং অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা সত্বেও সংবিধান লংঘন করে এই সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, সভা-সমাবেশে বাঁধাসহ সব ধরনের মানবাধিকার লংঘন করে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দলটি।
আজ বিকেল সাড়ে তিনটায় গুম, খুন, সন্ত্রাস ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বিজয়নগরস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে ‘কালো পতাকা হাতে প্রতিবাদ ও প্রতীকী অনশন কর্মসূচি’ পালনকালে এসব অভিযোগ করেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক প্রফেসর ডাঃ মেজর (অবঃ) আব্দুল ওহাব মিনারের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ ও প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, বিশিষ্ট জননেতা বিএম নাজমুল হক, পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও যুবপার্টির আহবায়ক এবিএম খালিদ হাসান। এছাড়াও গুম, জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার হওয়া নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বক্তব্য রাখেন, এবি পার্টির সিনিয়র সহকারী সদস্যসচিব আনোয়ার সাদাত টুটুল, আব্দুল বাসেত মারজান, কেন্দ্রীয় নেতা প্রকৌশলী মো. লোকমান, অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান, আব্দুল হালিম নান্নু ও আমানুল্লাহ সরকার রাসেল।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, এই সরকার বাংলাদেশের সকল মানুষের অধিকার হরণ করেছে। এই সরকারের পুলিশ বাহিনী ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র মোকাদ্দেস ও ওয়ালিউল্লাহ সহ বহু ছাত্র যুবককে গুম করেছে। আজ পর্যন্ত আমরা তাদের খবর জানিনা। তিনি বলেন, আমি হাইকোর্টে এই ব্যাপারে মামলা করলে তৎকালীন আইজিপিকে হাইকোর্ট তলব করে ব্যাখ্যা চায়। সেই মামলা সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে স্টে করে রেখেছে আজ পর্যন্ত তার শুনানি হয়নি। তিনি আরও বলেন, মানুষ আজ ভোট দিতে পারেনা, ব্যাবসা করতে পারেনা আমরা আমাদের অধিকার চাই। আমরা নিজের ভোট নিজে দিতে চাই। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে এই প্রহসনের নির্বাচন বাতিল করে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন চাই।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জাতিসংঘ ষোষিত মানবাধিকার সনদের ধারা ২০ এর (১) অনুযায়ী প্রত্যেকেরই শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার এবং তাতে অংশগ্রহণ করার অধিকার আছে। কিন্তু বাংলাদেশে সেই অধিকার শুধু সরকারী দল আওয়ামীলীগ ভোগ করছে। অন্য কোন দল বা মানুষের সব অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন মানবাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ের ২৬-৪৭ক নং অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা সত্বেও সংবিধান লংঘন করে এই সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, সভা-সমাবেশে বাঁধাসহ সব ধরনের মানবাধিকার লংঘন করে যাচ্ছে। এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

প্রতীকী অনশনে আরো উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, যুবপার্টির সদস্যসচিব শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, সহকারী সদস্য সচিব শাহ আব্দুর রহমান, এস এম আক্তারুজ্জামান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহবায়ক গাজী নাসির, আব্দুল হালিম খোকন, যুবপার্টির মহানগর উত্তরের আহবায়ক হাদিউজ্জামান, যুগ্ম সদস্যসচিব মাসুদ জমাদ্দার রানা, ছাত্রপক্ষের আহবায়ক মোহাম্মদ প্রিন্স, সহকারী অর্থ সম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সেলিম খান, আব্দুর রব জামিল, রুনা হোসাইন, শাহীনুর আকতার শীলা, ছাত্রনেতা হাসিবুর রহমান খান সহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।




