শিরোনাম

সাভার-আশুলিয়ার ৮০ শতাংশ কারখানা বন্ধ ঘোষণা

সংবাদদাতা, সাভার : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মোকাবিলায় সতর্কতা হিসেবে সাভারে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ডিইপিজেড)সহ সাভার-আশুলিয়ায় অধিকাংশ শিল্প কারখানা আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
শনিবার দুপুরে মুঠোফোনে ঢাকা শিল্প পুলিশ-১ ও ডিইপিজেড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সরেজমিনে সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানার সামনে গিয়ে মূল ফটকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণার নোটিশ লাগানো রয়েছে।
এ সময় জানতে চাইলে সাভারের উলাইল এলাকার সর্ববৃহৎ তৈরি পোশাক কারখানা আল-মুসলিম গ্রুপের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি পোশাক শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয় চিন্তা করে সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলিয়ে শনিবার থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ।
তবে এ সময় পার্শ্ববর্তী আল ইসলাম, এইচ.আরগ্রুপসহ কিছু কিছু কারখানা স্বল্প পরিসরে খোলা রাখার বিষয়টিও লক্ষ্য করা গেছে। বিষয়টি জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, এখনো সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে অনেক পোশাক কারখানা চালু রেখেছে মালিকপক্ষ। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষার জন্য যদিও কারখানার মালিকরা বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়।
তিনি বলেন, এখানে অনেক শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করে বিধায় তাদের মধ্যে এই রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনাও বেশি। তৈরি পোশাক কারখানায় একটি শার্ট উৎপাদন করতে হলে সেটি কমপক্ষে অর্ধশতাধিক শ্রমিকের হাত ঘুরে।
এই শ্রমিক নেতা বলেন, শ্রমিকরা তাদের বাসায় গিয়ে গণটয়লেট, রান্নাঘর ব্যবহার করায় তাদের মধ্যে দ্রুত করোনা ছড়ানোর ভয় থাকে। এজন্য তিনি বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ রাখার বিষয়ে মত দেন।
ঢাকা শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সানা সামিনুর রহমান শামীম জানান, সাভার-আশুলিয়ার প্রায় ৮০ শতাংশ কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ।
‘এছাড়া যেসব কারখানা এখনো খোলা রয়েছে এবং বন্ধ ঘোষণাকৃত কারখানাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি’ যোগ করেন তিনি।
ডিইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক আবদুস সোবাহান জানান, নতুন ও পুরোনো ডিইপিজেডের বেশকিছু কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ। তবে কিছু কারখানা এখনো খোলা আছে। এ বিষয়ে আগামীকাল সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের সুরক্ষায় পোশাক কারখানা বন্ধ রাখতে কারখানা মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক।
গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি সবার সুরক্ষা ও সুস্বাস্থ্যের জন্য সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সর্ববৃহৎ শিল্প হিসেবে আমাদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত। আশা করি, এ অবস্থায় কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি আপনারা বিবেচনা করবেন।
ড. রুবানা হক সরকারের সাধারণ ছুটির সময়ে কারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তবে কেউ চাইলে কারখানা খোলা রাখতে পারবেন। পিপিই ও মাস্ক তৈরি হচ্ছে এমন কারখানাগুলো খোলা থাকবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি খোলা রাখা কারখানাগুলোকে শ্রমিকের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং শ্রমিকদের সব দায়িত্ব মালিকদের নিতে হবে।
উল্লেখ্য, সাভার-আশুলিয়ায় পোশাক কারখানাসহ প্রায় এক হাজার শিল্প কারখানা রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button