slider

সাভারে যৌতুকের দাবিতে চতুর্থ স্ত্রীকে নির্মম নির্যাতন

সোহেল রানা, সাভার (ঢাকা)প্রতিনিধি : সাভারের আশুলিয়ায় ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে চতুর্থ স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, তথ্য গোপন করে প্রতারণামূলক ভাবে ফুসলিয়ে চতুর্থ বিয়ে করেন তিনি। একপর্যায়ে প্রথম স্ত্রীকে সাথে নিয়ে মারধর ও গলায় ওড়না পেচিয়ে একাধিকবার তাকে হত্যারও চেষ্টা করা হয়। নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে চতুর্থ স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস সুরাইয়া আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন।
স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নির্যাতন করে এলাকা ছাড়া করার হুমকি প্রদান করে। যৌতুক না দিলে তাকে আর ঘরে তোলা হবে না বলেও জানিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় নিরুপায় হয়ে গত ৯ মে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ভুক্তভোগী জান্নাতুল ফেরদৌস সুরাইয়া (নং- ৫৬৭)।
অভিযুক্ত স্বামী আমিনুল ইসলাম (৫৫) আশুলিয়ার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আমবাগান এলাকার মৃত মিজানুর রহমান ওরফে মিজান গার্ডের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার রেজা ফ্যাশন কারখানায় জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) পদে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী নারী জান্নাতুল ফেরদৌস সুরাইয়া জানান, গত ১ এপ্রিল দুই লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে আশুলিয়ার আমবাগান এলাকার আমিনুল ইসলামের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর আমবাগান এলাকার নুরু মিয়ার মালিকানাধীন বাড়ির একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে তাকে সেখানে রাখেন এবং স্বামী আমিনুল তার কাছে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন। কিছুদিন যেতেই আমিনুল তাকে যৌতুক হিসেবে ৫ লাখ টাকা এনে দিতে বলেন। এতো টাকা কোথায় পাবো জানালে এবং দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার সাথে তার মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে সে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করতে থাকে।
ভুক্তভোগী আরও জানান, বিয়ের আগে আমিনুল তার কোন স্ত্রী নেই বলে আমাকে জানিয়েছিলেন। এমনকি বিয়ের কাবিননামায় তার কোন স্ত্রী নেই মর্মেও উল্লেখ করেন। তবে বিয়ের কিছুদিন যেতেই তার প্রথম স্ত্রী এসে হাজির হন। এরপর গত ৮ মে দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে প্রথম স্ত্রী সাথী সুলতানাকে সাথে নিয়ে আমিনুল আমার বসবাসকৃত নুরু মিয়ার মালিকানাধীন ভাড়া বাসায় এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং চড়থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারেন। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমিনুল আমার গলায় ওড়না পেচিয়ে ধরেন। এসময় আমার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা হুমকি প্রদান করে দ্রুত চলে যান।
ভুক্তভোগী সুরাইয়া আরও জানান, এখানেই শেষ নয়, গত ১৪ মে সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে পার্শ্ববর্তী পানধোয়া এলাকার রাস্তায় তাকে একা পেয়ে স্বামী আমিনুল ইসলাম, আমিনুলের ভাগিনা পিয়াল ও হিমেল তাকে চড়থাপ্পড় ও মারধর করেন। একপর্যায়ে আমিনুল রাস্তার পাশে পড়ে থাকা লাঠি দিয়ে সুরাইয়ার মাথায় আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন। এসময় সুরাইয়ার ডাক চিৎকারে পথচারীরা এগিয়ে এলে তার স্বামী আমিনুল সহ অন্যরা হুমকি প্রদান করে চলে যায়। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। আমিনুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মুক্তা আক্তারের সাথে ডিভোর্স হলে তিনি বর্তমানে স্পেনে বসবাস করছেন। এছাড়া তৃতীয় স্ত্রীর সাথেও তার ডিভোর্স হয়ে গেছে এবং বিয়ে ছাড়াও আমিনুল একাধিক নারীর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে বলে জানান। বর্তমানে অসহায় সুরাইয়া যৌতুকলোভী ও লম্পট প্রকৃতির স্বামীর বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
এসকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম বলেন, সুরাইয়া আমার বিবাহিত স্ত্রী এটা ঠিক। তবে সে আমার কথা শুনেনা, তাই তাকে নিয়ে আর ঘর-সংসার করা সম্ভব না। এখন তার সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়াটাই ভাল মনি করি। স্থানীয়ভাবে বসে যদি কোন আর্থিক জরিমানা করা হয় তাতে আমি রাজি আছি। তবে চারটি বিয়ের কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে এড়িয়ে যান এবং মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে সাধারণ ডায়েরি (জিডি’র) তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত রায় বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button