sliderস্থানিয়

সাভারে দুই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ

সোহেল রানা,সাভার : সাভারে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে দুই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার দিবাগত (২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে বারোটার দিকে সাভার মডেল থানাধীন হেমায়েতপুরের জয়নাবাড়ি স্কুল পাড়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যে তাদের হেফাজত থেকে ৪ লিটার বিদেশি মদ, ১৮ লিটার দেশি মদ, ২টি মোবাইল ফোন ও যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-ঢাকা জেলার হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড পাড়া এলাকার কথিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মোস্তফার ছেলে ফিরোজ ওরফে গুটি ফিরোজ (৩৫) এবং দিনাজপুর জেলার সদর থানার মধ্য বালুবাড়ী এলাকার আজিজুল ইসলামের ছেলে সুজন (৩২)। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, পর্নোগ্রাফি, মাদক, ছিনতাইসহ অন্তত ১৭ টি মামলা রয়েছে।

স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, গুটি ফিরোজ দীর্ঘদিন ধরে হেমায়েতপুর, আমিনবাজার, বনগাঁও ও ভাকুর্তা এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। তার নেতৃত্বে মাদক সরবরাহে নিয়োজিত ছিল বেতনভুক্ত অন্তত অর্ধশতাধিক যুবক-যুবতী। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে সে দীর্ঘদিন এই অবৈধ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করে আসছিল।

সূত্র আরও জানায়, কিছুদিন আগে সাংবাদিক আলী রেজা রাজু গুটি ফিরোজের মাদক সাম্রাজ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে তাকে অপহরণ করে রাতভর নির্যাতনের ঘটনায় আলোচনায় আসে এই চক্র। ওই ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুটি ফিরোজ ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা জোরদার করে।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের আগে নিষিদ্ধ ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তেতুলঝরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পলাতক ফখরুল আলম সমরের ছত্রছায়ায় এই মাদক ব্যবসা পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কয়েকজন বিএনপি নেতাকে ম্যানেজ করে একই সিন্ডিকেট সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল গুটি ফিরোজ।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী বলেন, “সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর অভিযানে হেমায়েতপুর এলাকার একজন চিহ্নিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ফিরোজ ও তার অন্যতম এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন অবৈধ আলামত জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার সহযোগীদের নাম ও তথ্য আমাদের কাছে এসেছে-তাদেরও পর্যায়ক্রমে আইনের আওতায় আনা হবে।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মাদক সিন্ডিকেট নির্মূলে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button