
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের কামতা এলাকায় সরকারি ইজারাকৃত জমি থাকলেও সেখানে হাট না বসিয়ে পাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে প্রতিদিন আড়ৎ বসিয়ে আদায় করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা খাজনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই জমিটি সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেকের মালিকানাধীন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২১ সালে মন্ত্রী থাকাকালে জাহিদ মালেক কামতা মৌজায় প্রায় ৫ একর তিনফসলি জমি কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে কিনে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করান। পরবর্তীতে সেখানে ইটের সলিংসহ স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করে গড়ে তোলেন একটি পল্লী হাট। হাটটিকে বৈধতা দিতে প্রায় ৩০০ ফুট দূরে ২৬ শতাংশ সরকারি জমি সরকারের নামে ওয়াকফ্ দেখিয়ে সেখানে হাটের কাগজপত্র তৈরি করা হয় এবং সেটি তাঁর ছেলে ইজারা নেন। কিন্তু বাস্তবে হাট বসানো হচ্ছে মন্ত্রীর কেনা জমিতে,আর সরকারি ইজারাকৃত জমি পড়ে রয়েছে কার্যত ব্যবহারবর্জিত অবস্থায়। নিয়ম অনুযায়ী এই হাটটি সপ্তাহে একদিন—বুধবার—বসার কথা, কিন্তু প্রতিদিন ভোরে বসানো হচ্ছে আড়ৎ। এতে সরকারি রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি কৃষকরা পড়েছেন বাড়তি খরচের চাপের মুখে।
এ বছরের ইজারাদার মো.শরিফুল হক(রতন) নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘আমি যেজায়গাটিকে হাটের জায়গা ভেবে ইজারা নিই, সেখানেই হাট বসছে। মূল হাট অন্যত্র ছিল তা জানা ছিল না। কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছু জানায়নি।’
স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘সাবেক মন্ত্রী জাহিদ মালেক সরকারের টাকায় নিজের জমিতে হাট গড়ে তুলেছেন। আমরা তখন কিছুই বলতে পারিনি।’ধানকোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘সাবেক মন্ত্রী পালিয়ে থাকলেও তাঁর ঘনিষ্ঠরা এখনো হাট থেকে খাজনার নামে সাধারণ কৃষকদের টাকা নিচ্ছে। একদিনের হাট চালানো হচ্ছে সপ্তাহজুড়ে।’
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’




