শিক্ষাশিরোনাম

সাদিয়াকে বাঁচাতে তিতুমীর কলেজ বিতর্ক ক্লাবের ভিন্ন উদ্যোগ

মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা সাদিয়াকে বাঁচাতে ভিন্নধর্মী উদ্যেগ গ্রহণ করেছে কলেজটির সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন বিতর্ক ক্লাব। এদিকে বাবা-মা মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিজের ভিটেমাটিও বিক্রি করে দিয়েছেন।
সংগঠনটি একটি ক্যাম্পেইন চালিয়ে সাদিয়ার জন্য টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করছে। ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধরণের পণ্য বিক্রি করছে ‘জিটিসি-ডিসি’। তাছাড়া আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘Debate for Sister’ শীর্ষক বিতর্কের।
বুধবার এই অনুষ্ঠানস্থলে বিভিন্ন খাবার বিক্রি সহ জিটিসি-ডিসি’র সদস্য কর্তৃক মেহেদী কর্ণার, ফুড কর্ণার, হ্যান্ড ক্রাফট এবং লাইব্রেরী কর্ণারের আয়োজন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আয়োজকরা জানান, এ কার্যক্রম থেকে উপার্জিত পুরো অর্থ সাদিয়ার চিকিৎসার জন্য প্রদান করা হবে।
বিতর্ক ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মাহবুব হাসান রিপন বলেন, ‘ক্যানসারে আক্রান্ত সাদিয়াকে বাঁচাতে আর্থিক সহযোগিতার জন্য আমরা একটি ভিন্নধর্মী আয়োজন করেছি। যেটি ১৯৭১ সালের কনসার্ট ফর বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে করছি। আমরা অনেক টাকা অনেক জায়গায় ব্যয় করি। আমরা চাই আমাদের কিছু আয়োজনে সামিল হয়ে আপনিও কিছু টাকা মানবতার স্বার্থে ব্যয় করবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘সাদিয়ার বেঁচে থাকার আকুতি কল্পনা করে নিজেকে একবার হলেও সাদিয়ার জায়গায় বিবেচনা করি। আমাদের সকলের আপ্রাণ চেষ্টায় মহান সৃষ্টি কর্তার কৃপায় আমাদের বোন সাদিয়া আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসুক, তিতুমীরের মাটিতে আবার দেখা যাক সাদিয়ার পদচারণা।’
প্রসঙ্গত, সাদিয়ার বাসা রাজধানীর বিমানবন্দরের কাওলা এলাকায়। বর্তমানে উত্তরার আর এম সি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাদিয়া।
সাদিয়ার বাবা মঈন উদ্দিন হেলালী বলেন, ‘আল্লাহ যেন কোনও মেয়েকে এমন রোগ না দেয়। মেয়ের কষ্ট দেখে আর থাকতে পারছি না। কয়েকদিন আগে আবারও দুটি টেস্ট করিয়েছি। প্রায় ১ লাখ টাকা লেগেছে। এ পর্যন্ত মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিজের ভিটেমাটিটাও বিক্রি করে দিয়েছি। আর পারছি না। বাধ্য মেয়ের জীবনের জন্য সবার দারস্থ্য হতে হচ্ছে। ডাক্তাররা আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এত ব্যয়বহুল চিকিৎসার ভারে অসহায় হয়ে পড়ছি। এখন হাসপাতালে প্রতিদিনের চিকিৎসা ব্যয় ও সিট ভাড়াসহ যাবতীয় খরচ কোনভাবেই মেটাতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও বিনীত আবেদন, উনি যদি আমার মেয়েটার দিকে তাকাতেন…!’
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কোলন ও ওভারি ক্যান্সার দুটির চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এই মুহূর্তে অর্থ যোগানের বিকল্প নেই। শিগগিরই তিনটি কেমোথেরাপি বিদেশ থেকে আনতে হবে। যার একেকটির ব্যয় পড়বে ৬ লাখ টাকা।
সাদিয়া রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের রসায়ন বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্রী। গত ২০১৮ সালে মে মাসে পরীক্ষার কেন্দ্রে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে উত্তরা মহিলা মেডিকেল ও পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন সেখানে চিকিৎসা নেয় সাদিয়া। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে উত্তরার আর এম সি হাসপাতালে জরুরি অপারেশন করা হয়। এরপর তার কোলন ক্যান্সার ধরা পরে।
মাঝে কিছুদিন সুস্থ ছিলেন সাদিয়া। নিয়মিত নিজের ক্লাস ও টিউশনিও করেছেন। কিন্তু গত রমজানের আগে আবার ব্যথা শুরু হলে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান বিদ্যুতের তত্ত্বাবধানে এখন আলোক হাসপাতালে বিশোর্ধ সাদিয়ার চিকিৎসা চলছে।
সাদিয়ার মা কামরুন নাহার জানান, ৮টি কেমোথেরাপির পর আরও একটি অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখে ক্যান্সার সমস্ত পেটে ও জরায়ুতে ছড়িয়ে পরেছে। এর মাঝে আমরা কোলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাই। কিন্তু চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় আবার দেশে আসি। এখন মেয়ের পা ফুলে মোটা হয়ে গেছে। পেটও ফুলে গেছে। ব্যথ্যায় অস্থির হয়ে গেছে। সামান্য পানি ছাড়া কিছুই খেতে পারছে না। আমার মেয়েটা সব সময় মানুষের সেবায় কাজ করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button