শিক্ষাশিরোনাম

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের ক্ষমতা ঢাবির নেই

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেছেন, অধিভুক্তি বাতিলের ইখতিয়ার আমাদের নেই। এটা সম্পূর্ণ সরকারের সিদ্ধান্ত। আমরা যেটা পারি সেটা হচ্ছে এটাকে নতুন করে সাজাতে এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে। যাতে করে আমাদের শিক্ষার্থীদের কোনো স্বাভাবিক কাজে ব্যহত না ঘটে।
তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি আমাদের সমর্থন ও সহানুভূতি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক ভবনে তালা ও ক্লাস পরীক্ষা বর্জন আমাদের অনেক কার্যক্রম ব্যহত করেছে। উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে আমরা ডাকসু নেতাদের সাথে আলোচনা করেছি। তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলবেন এবং শিক্ষার্থীরা জানেন না এমন কিছু তথ্য প্রদান করবেন। আশা করি, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরবে এবং বাকি সিদ্ধান্ত উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান চীন থেকে ফিরলে নেওয়া হবে।
রোববার (২১ জুলাই) বিকেলে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ এসব কথা বলেন।
এদিকে ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম আলাদাভাবে পরিচালনা করা হবে বলে জানান সাত কলেজের সমন্বয়ক অধ্যাপক শিবলী রুবায়েত। তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সাথে ওই সাত কলেজের শিক্ষা পরিচালনার কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না। ঢাবি শিক্ষার্থীদের শিক্ষায়ও কোনো ব্যাঘাত হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকীর সময়ে সরকার সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করে। বর্তমানে সাত কলেজ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়ে জানতে চাইলে এই সাবেক উপাচার্য বলেন, সাত কলেজের অধিভুক্তির বিষয়ে কী কী সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, সেটার সর্বশেষ তথ্য আমার কাছে নেই। তাই আমি কিছু বলতে পারবো না। এসব বিষয়ে জানার জন্য বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি। সাত কলেজের অধিভুক্তির ফলে সৃষ্ট সমস্যা তুলে ধরে সাবেক উপাচার্য হিসেবে তার মতামত জানতে চাইলেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থেকে সরকারি ৭ কলেজকে বাতিলের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী, রোববার সকালে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অধিভুক্তি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button