সরকার বন্দুকযুদ্ধের নামে বিরোধীদের হত্যা করছে-বিএনপি

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘সরকার বন্দুকযুদ্ধের নামে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের অব্যাহতভাবে হত্যা করছে। অন্যদিকে বন্দুকযুদ্ধে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের নির্মমভাবে হত্যা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেশা ও রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।’
২ অক্টোবর রোববার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনটি মূলত শনিবার ভোর রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সাভার পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম নয়ন নিহত হওয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়।
বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বর্তমান ভোটবিহীন সরকার গত নয় মাসে দেশে ১৭৮ জনকে বন্দুকযুদ্ধের নামে নৃশংসভাবে হত্যা করা করেছে। এধরনের বন্দুকযুদ্ধে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের পৈশাচিকভাবে হত্যা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেশা ও রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। সাভার পৌর যুবদল নেতা নয়ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেই নেশা ও রেওয়াজের শিকার।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘গতকাল শনিবারও নেত্রকোণা জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে। সরকারের সন্ত্রাসবাদী রাজত্বে এই ধরনের হামলা ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্ন ঘটনা। দেশে গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন নেই। মৌলিক ও মানবাধিকার ভু-লুন্ঠিত হচ্ছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। মানুষের স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’
দুদু বলেন, ‘বর্তমানে আইন-আদালত শাসকগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। দেশে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা বিরাজ করছে। দেশের কোনো মানুষই এখন নিরাপদ বোধ করছেন না। অপরাজনীতির চর্চা করে সরকার বিরুদ্ধমত দমনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শুধু বিএনপিই নয়, নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান- যেমন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধেও ক্ষুব্ধ।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘যারাই সরকারের অপশাসন, দুঃশাসন, দুর্নীতির সমালোচনা করছে- সরকার তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করছে। কাজেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারকে সময় থাকতেই উপায় বের করেতে হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।’




