
সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, সরকারের ভুল নীতি ও সিদ্ধান্তের কারণে নদী, বন, পরিবেশ ও মানুষের জীবন জীবিকা হুমকির মুখে।
তিনি সুন্দরবন ঘিরে শিল্প কারখানায় স্থাপনের বিষয়ে বলেন, সার্বিক পরিবেশ ও মানবতার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে শিল্প কারখানার অনুমোদন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। উন্নয়ন হতে হবে জনস্বার্থে।
তিনি পশুর নদী ও সুন্দরবনের পাশ থেকে সব শিল্প কারখানার অনুমোদন বাতিল করাসহ পশুর নদীর ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ এবং দেশের অন্যান্য নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।
সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি ও পশুর রিভার ওয়াটার কিপারের উদ্যোগে আজ রাজধানীর বাংলা মটরস্থ বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র সম্মেলন কক্ষে ‘পশুর নদীর ভাঙন থেকে নদী, সুন্দরবন ও মানুষ রক্ষার দাবিতে’ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য দেন, পশুর বিভার ওয়াটার কিপার নুর আলম শেখ, চাঁদপাই ইউনিয়নের জেলে সম্প্রদায়ের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ ও চাঁদপাইয়ের বাসিন্দা কমলা সরকার।
সুলতানা কামাল আরো বলেন, পশুর নদী ও সুন্দরবন ঘেষে যে অপরিকল্পিত কর্মযজ্ঞ হচ্ছে এবং এর ফলে পশুর নদীর অস্বাভাবিক ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে তা উদ্বেগের। নদী ভাঙনে দুই পাড়ের বাসিন্দারা দিশেহারা। মানুষ আজ বাস্তুহারা ও মানবেতর জীবন যাপন করছে।
তিনি বলেন, সরকারকে যেকোনো উপায়ে নদী ভাঙন রোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা দেখেছি, ভাঙন কবলিত বেশিরভাগ মানুষ তাদের সহায় সম্বল হারিয়ে শহরমুখী হয়ে হয়তো কোনো বস্তিতে আশ্রয় নেয়। আবারও সেখান থেকে বিতারিত হয়ে তাদের বিপন্নতার মধ্যে পড়তে হয়। আমরা জানি নদীর পাড় কৃষি ভিত্তিক সভ্যতা গড়ে উঠার কথা, শিল্পভিত্তিক সভ্যতা নয়।
বিশিষ্ট লেখক-বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও শিল্পায়নের ফলে পশুর নদীর যে বিপর্যয় ডেকে এনেছে তা উদ্বেগের। মৎস সম্পদ, বন, নদী ও পরিবেশকে ধবংস করে শিল্পায়ন কোনোভাবেই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। পশুর নদী ও সুন্দরবনের পাশ ঘিরে যেসব শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে বা অনুমোদন দেয়া হয়েছে কিছু লোকের স্বার্থে। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে এবং মানুষের জীবন জীবিকা হুমকির মুখে দিয়ে এ ধরনের শিল্পায়ন অত্যন্ত দুঃখজনক। এ এলাকার শিল্পকারখানাগুলোর লাভ-ক্ষতির একটি সার্বিক তথ্য বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যালোচনার মাধ্যমে জনসম্মূখে প্রকাশের আহবান জানান তিনি।
সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ডা: মো: আব্দুল মতিন বলেন, নদী ও সুন্দরবন বিষয়ে সরকারের মানসিকতা ইতোমধ্যে দেশবাসী লক্ষ্য করেছে। নদী, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় শিল্পায়নের স্থান নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি কয়েকদিন আগে সুন্দরবনের পাশে যে ৩২০টি শিল্প কারখানার অনুমোদন দিয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য শরীফ জামিল পশুর নদীর অস্বাভাবিক ভাঙনের বিজ্ঞানভিত্তিক কারণ নির্ণয় ও ভাঙন রোধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান।
মুল বক্তব্যে নুর আলম শেখ বলেন, সুন্দরবনের লাইফলাইন হচ্ছে পশুর নদী। ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট হিসেবে সুন্দরবনের গড়ে ওঠা ও টিকে থাকার ক্ষেত্রে পশুর নদীর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য পশুর নদীপাড়ের এসব মানুষ আজ ভাঙন, দূষণ এবং নদীপাড়ের চলমান শিল্পায়নের মাধ্যমে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের কারণে গাছপালা ও ফসলের মাঠে ফলন নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছে।
তিনি বলেন, পশুর নদীর অস্বাভাবিক ভাঙনের বিজ্ঞানভিত্তিক কারণ নির্ণয় ও ভাঙন রোধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।




