সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল লেবানন

অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে তৃতীয় রাতের মতো লেবাননের বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করেছেন দেশটির হাজারো মানুষ। শুক্রবার বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর শনিবার দ্বিতীয় রাতে বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় নিরাপত্তা বাহিনী। সহিংসতার ঘটনায় সরকারের নিন্দা করছেন অনেকে।
পুলিশ ও সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে এ সময় বিক্ষোভকারীরা তাদের লক্ষ্য করে পাথর ও মশাল ছোঁড়া শুরু করে। জবাবে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। শতাধিক মানুষ আহত হওয়া ছাড়াও নিরাপত্তারক্ষীরা বন্দুক দিয়ে বিক্ষোভকারীদের মারছেন এমন ছবিও দেখা গেছে।
১৯৭৫-১৯৯০ এর গৃহযুদ্ধের পর সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে লেবানন। মানুষের জীবনধারণের ব্যয় বেড়েছে চরম মাত্রায়। এছাড়া সরকারের মধ্যে এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ না থাকায় এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাজধানী বৈরুতের কেন্দ্রস্থলে পতাকা নিয়ে বিক্ষোভকারীদেরকে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বিক্ষোভকারী ও অ্যাক্টিভিস্ট নেহমত বাদরেদাইন বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, ‘আমরা এখানে একটা নতুন ট্রানজিশনাল সরকার গঠন এবং প্রাথমিক সংসদ নির্বাচনের দাবিতে রাস্তায় নেমেছি।’ গত অক্টোবরের বিক্ষোভের পর মুদ্রার মান এখন ৭০ শতাংশ কমায় দেশটিতে জীবনযাত্রার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
মুদ্রার মান কমে যাওয়ার পাশপাশি বেকারত্বের হার বেড়েছে ব্যাপক হারে। বর্তমানে লেবাননের মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশই কর্মহীন। তারই প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ মানুষ পথে নেমেছেন। লেবানিজ পাউন্ডের দাম ৭০ শতাংশ কমা ছাড়াও করোনা মহামারি কারণে দেশটির অর্থনৈতিক সংকট আরো তীব্র হয়েছে।
ত্রিপোলীতে বিক্ষোভকারীরা পতাকা হাতে ‘বিপ্লব, বিপ্লব’ বলে স্লোগান দেন। পাথরের পাশাপাশি তারা ককটেল নিক্ষেপ করেন। কয়েকটি দোকান ও ব্যাংকে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে সেখানে। তরুণ বিক্ষোভকারী ওয়েল বলেন, ‘আমি শুধু বাঁচার জন্য চাকরি চাই। সরকারের কোনো ঘোষণায় আমরা এখন আর বিশ্বাসী নই।’



