সমাজতন্ত্রের জনক মহামতি কার্ল মার্ক্স এর প্রয়ান দিবস পালিত

মানিকগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা : আজ থেকে ২০২ বছর আগের কথা, পৃৃথিবীর সভ্যতার বিকাশ হয়েছে পাশ্চাত্য ইউরোপ মহাদেশ থেকে। সেই পাশ্চাত্য জার্মান দেশের প্রæশিয়ার রাইন অঞ্চলে ত্রিয়ের শহরে ৫ মে ১৮১৮ সালে জন্ম গ্রহন করেন কার্ল হাইনরিশ মার্ক্স। তার পিতা ছিলেন আহনজীবি, তাই মধ্যবিত্ত একটি পরিবারে তার জন্ম হলেও তার জীবন যাপন ছিল সাধারন অনারাম্ভর। বহুমাত্রিক প্রতিভাবান দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানি, অর্থণীতিবিদ ও সমাজ তন্ত্রের জনক বলে খ্যাত এই মহামানব ১৮৮৩ সালে ১৪ মার্চ ব্রংক্রাইটিস রোগের সাথে ১৫ মাস যুদ্ধ করার পর শেষ নি:শাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় তার কোন জাতীয়তা বা দেশ ছিল না, তাকে ১৭ মার্চ লন্ডনের হাইগেট সেমিটারিতে সমাহিত করা হয়।
মহতি এই দার্শনিকের ১৩৭ তম মৃত্যুবার্ষীকিতে গত ১৪ মার্চ মানিকগঞ্জ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে স্যাক কার্যালয়ে বিকেল ৫.০০ ঘটিকা থেকে সন্ধা ৭.০০ ঘটিকা পর্যন্ত তার জীবন ও কর্মের উপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রবীন কৃষক-ক্ষেতমজুর নেতা কমরেড দুলাল বিশ^াস এর সভাপতিত্তে¡ এবং বিমল রায় এর সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশগ্রহন করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা এ্যাড.আজাহারুল ইসলাম আরজু, ৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির জেলা সভাপতি এ্যাড.দিপক কুমার ঘোষ, জেলা সিপিবির সভাপতি অধ্যাপক আবুল ইসলাম শিকদার, মানবতাবাদী চিকিৎসক ট্রমা বিশেষজ্ঞ ডা: পংকজ মজুমদার, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শ্যামল কুমার সরকার, মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ^াস, প্রগতি লেখক সংঘের জেলা সাধারন সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম প্রমুখ। এছারাও উপস্থিত ছিলেন বশির উদ্দিন বাচ্চু মাস্টার, ডা: ভজন কৃষ্ণ বনিক, শাহিনুর রহমান,পংকজ পাল,আলামিন মিয়া, জিসানুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন তিনি সমাজতান্ত্রিক মতবাদের প্রবক্তা, যে মতবাদ পৃথিবীতে এখনো চলমান সমালোচনা থাকলেও নি:শেষ হয়নি এবং হবেও না। পৃথিবীর কোন মহামানব তার দার্শনিক মতবাদ বাতিল করতে পারেনি এবং কোন বিকল্প তত্ত¡ দিতে পারে নাই, এখনো পর্যন্ত তিনিই সর্বকালের সর্বশেষ্ট মহামানব। তার আগ্রহ ছিল রাজনীতি ,অর্থনীতি ও শ্রেণীসংগ্রাম। তার সমাধি ফলকে দুটি বাক্য লেখা আছে। প্রথমে লেখা কমিউনিস্ট মেনুফেস্টোর শেষ লাইন ”দুনিয়ার মজদুর এক হও” এরপর লেখা তার বিখ্যাত উক্তি ”এতদিন দার্শনিকেরা কেবল বিশ^কে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যাই করে গেছেন,কিন্তু আসল কাজ হলো তা পরিবর্তন করা।” বিখ্যাত আরো উক্তির মধ্যে ”ধনী-গরিব সমাজই সৃষ্টি করেছে ইশ^র নয়”তার মূল দর্শন হলো ”দ্বা›িদ্বক বস্তুবাদ” বস্তু সর্বদায় দ্ব›দ্বময় তাই দ্বন্দ¦ ও সংঘাতের মধ্যে দিয়েই সর্বহারা শ্রেণী ঐক্যবদ্ধ হবে এবং ধনীক শ্রেণীর পতন ঘটিয়ে প্রলেতারিয়েত বা গরিব মানুষের সরকার তথা সাম্যবাদি সমাজ কয়েম করবে। এই দর্শনের উপর ভিত্তি করে এখনো বিশে^র অনেক দেশ পরিচালিত হচ্ছে। তার অনুসারিদের স্বপ্ন গোটা বিশ^ই একদিন সমাজতন্ত্রের ছায়াতলে আসবেই।




