sliderস্থানিয়

সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ, বরকলের প্রতিনিধি সম্মেলনে নতুন অঙ্গীকার

মোঃ কামরুল ইসলাম, রাংগামাটি ​প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রামে সবার জন্য ‘সমান অধিকার’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যের বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো’পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন’ এর বরকল উপজেলা প্রতিনিধি সম্মেলন-২০২৫ বুধবার (৮ অক্টোবর) সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ইউনিয়নের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজকর্মী ও সংগঠনের নেতারা জোর দিয়ে বলেন, বৈষম্য নয়, পাহাড়ে এখন ঐক্য ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সময়।

​বৈষম্য ভেঙে ঐক্যের সেতু গড়াই মূল লক্ষ্য,সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. শাহ আলম সওদাগর। তাঁর বক্তব্যে তিনি সম-অধিকার আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন পাহাড়ের উন্নয়ন তখনই টেকসই হবে, যখন এখানকার প্রতিটি নাগরিক সমান সুযোগ ও অধিকার ভোগ করবে। আমাদের লক্ষ্য হলো বৈষম্যের দেয়াল ভেঙে ঐক্যের সেতু নির্মাণ করা। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

রাঙামাটি জেলা কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. ছগির আহম্মেদ তাঁর বক্তৃতায় বলেন আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে ধর্ম, ভাষা বা জাতিসত্তার কারণে কেউ বঞ্চনার শিকার হবে না। বরকল থেকে এই সমতার বার্তা আজ পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে ছড়িয়ে গেল।
​জেলা কমিটির সদস্য সচিব মো. রাকিব হাসান তরুণ প্রজন্মকে এই মানবিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

নতুন নেতৃত্ব: রুহুল আমিন-জাকিরের কমিটি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন, রাঙামাটি জেলা কমিটির আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন। তিনি বলেন আমরা কারো বিরুদ্ধে নই, বরং ন্যায়ের পক্ষে। যারা পার্বত্য অঞ্চলে বঞ্চিত, তাদের কণ্ঠস্বর মূলধারার আলোচনায় তুলে আনাই আমাদের মূল কাজ। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন জেলা কমিটির সদস্য মো. শাহীর উল হক।

সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ঘোষণা করা হয় বরকল উপজেলা শাখার আংশিক কমিটি। মো. রুহুল আমিন (মেম্বার)-কে সভাপতি এবং মো. জাকির মেম্বার-কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

​নব-নির্বাচিত নেতারা এই কমিটিকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে অঙ্গীকার করেন, তারা বরকলের প্রতিটি গ্রামের মানুষের পাশে থাকবেন এবং সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবেন।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম-অধিকার আন্দোলনের কার্যক্রম এখন দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। একজন প্রবীণ সমাজকর্মী বলেন, এই আন্দোলনকে আমরা রাজনৈতিক চোখে দেখছি না, এটি মানবাধিকারের জন্য আন্দোলন। দীর্ঘদিনের ন্যায্য অধিকারের দাবি এখন বাস্তব পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে।

তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরাও এই উদ্যোগে যুক্ত হয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পার্বত্য অঞ্চলের সব সম্প্রদায়ের মধ্যে ন্যায্য অধিকার, উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করাই এই আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button