পতাকা ক্যারিয়ার

সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা (অনুশীলন ৭৯): ‘প্রকৃতির সান্নিধ্যে বেশি সময় কাটান’

প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য রয়েছে আমাদের এ নতুন আয়োজন। এখানে ‘দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কাম্বারল্যান্ড লিখিত একটি বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হবে। বইটির শিরোনাম, ‘হান্ড্রেড থিংস সাকসেসফুল পিপল ডু: লিটল এক্সারসাইজেস ফর সাকসেসফুল লিভিং’। এবং আমরা বইটি অনুবাদ করছি “সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা” শিরোনামে। সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন এই বই থেকে একটি করে বিষয় আলোচনা করা হবে। আজকের আয়োজনে জেনে নিন সফল ব্যক্তিদের করা ৭৯ নম্বর বিষয়টি সম্পর্কে।
অনুশীলন ৭৯: ‘প্রকৃতির সঙ্গে অধিক সময় কাটান’
২০০৯ সালে ‘জার্নাল অব এপিডেমিওলোজি অ্যান্ড কমিউনিটি হেলথ’ এর একটি গবেষণায় প্রকাশিত হয় যে আপনি কম স্ট্রেস অনুভব করেন যখন প্রকৃতির কাছাকাছি থাকেন। জাপানিজেরা এটিকে ‘ফরেস্ট বাথিং’ বলে থাকে। যদি আপনি গাছগাছালি এবং জঙ্গলের মধ্য দিয়ে হেঁটে যান তাহলে আপনার রক্তচাপ এবং স্ট্রেস অনেকাংশে কমে যাবে। প্রকৃতির কোলে সময় কাটানোর মাঝে অনেক ধরনের উপকারিতা আছে-
– প্রাকৃতিক সূর্যালোক আপনাকে ভিটামিন ডি সরবরাহ করে, এটি আপনার ত্বক ও স্বাস্থ্যের উপর বেশ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। আপনার ফুসফুস সতেজ হাওয়া পায় এবং এতে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।
– দালানকোঠা এবং প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকলে আপনি আনন্দের সঙ্গে বসবাস করতে পারেন, শান্তি ও স্বস্তি বোধ করেন। একশ বছরের পুরনো গাছের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে কিংবা একটু পাশে দাঁড়ালে ভেতর থেকেই অদ্ভুত এক ধরনের শক্তি অনুভব করবেন আপনি।
প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটালে আপনার মানসিকতা এবং চিন্তাধারা প্রসারিত হয়। অনেক সময় আমি আমার ক্লায়েন্টদের মিটিং রুমে কিংবা রেস্তোরাঁয় প্রশিক্ষণ না দিয়ে পার্কে হেঁটে হেঁটে কিংবা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে দিই। এতে করে কথোপকথন বেশ গভীর ও বন্ধুত্বপূর্ণ হয়।
প্রকৃতি আপনাকে শান্ত, ধৈর্যশীল এবং সহনশীল হতে শেখায়। আপনার চারপাশে গাছগাছালি ধীরে ধীরে কিন্তু মনের অজান্তেই বেড়ে উঠছে। আমেরিকান লেখক এবং প্রকৃতিবিদ হ্যাল বোরল্যান্ড বলেছেন, ‘গাছকে জেনে আমি ধৈর্যশীলতা শিখেছি এবং ঘাসকে পর্যবেক্ষণ করে আমি হাল ধরা শিখেছি’
কার্যে পরিণত করুন
যখনই সুযোগ পাবেন, প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাবেন। নিচের তিন উপায়ে এটি খুব সহজ হয়ে যাবে।
বাগান করুন
প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা মানেই কিন্তু লং ড্রাইভে চলে যাওয়া না। আপনার বাসার পাশেই পার্কে হেঁটে কিংবা বারান্দার গাছগুলোকে পরিচর্যা করেই আপনি প্রকৃতির উপকারিতা গ্রহণ করতে পারেন।
সবচেয়ে দারুণ একটি উপায় হলো- বাগান করা। এটি আপনার নিজস্ব কিংবা বন্ধুর শখের টব বাগান হতে পারে। টবের গাছের যত্ন নিয়ে, আগাছা পরিষ্কার করে, সার দিয়ে, ছোট্ট পাখিদের খাইয়ে আপনি যে পরিমাণ মানসিক শক্তি সংগ্রহ করবেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতন নয়।
ধকল কমানোর অন্যতম উপায় হলো হাতে মাটি লাগিয়ে প্রকৃতি মাতার পরিচর্যা করা। এতে করে আপনি দৈনন্দিন যন্ত্রণা থেকে দূরে থাকবেন এবং বর্তমান মুহূর্তে অবস্থান করতে পারবেন।
ছুটির দিনগুলো প্রকৃতির সঙ্গে কাটান
আমার একজন কাজিন আছেন যিনি তার ছুটির সময়গুলো বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাটাতে পছন্দ করেন। তিনি পাখি দেখতে ও প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসেন। কেন তাঁকে অনুসরণ করে শহরের কোলাহল থেকে একটু বাইরে পা রাখা যায় না? ছুটির দিনগুলো বহুতল ভবনে এবং আধুনিক শহরে কাটালেই কি কেবল স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা যায়? শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক যন্ত্রণা এবং কষ্টের হাত থেকে রক্ষা পাবার টনিক হিসেবে কাজ করে প্রকৃতি।
তারা দেখুন
এমন একটি জায়গা পছন্দ করুন যেখান থেকে আপনি নিশ্চিন্তে নিজের খুশিমতো সমগ্র আকাশ এবং তারাপুঞ্জি দেখতে পাবেন। টেলিস্কোপ আপনাকে এক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে কিন্তু সেটি জরুরী নয়। আপনার এ অভিজ্ঞতা মনে লালন করতে পারবেন দীর্ঘদিন। জীবনের অসংখ্য ছোট ছোট সমস্যা ও উদ্বেগ খুব ছোট মনে হবে এর কাছে। জীবনের মাহাত্ম্য নতুনভাবে টের পাবেন আপনি।
সুত্র : প্রিয়.কম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button