সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা: অনুশীলন ৪৩- ‘ব্যর্থ হবার সাহস রাখুন’
প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য রয়েছে আমাদের এ নতুন আয়োজন। এখানে ‘দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কাম্বারল্যান্ড লিখিত একটি বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হবে। বইটির শিরোনাম, ‘হান্ড্রেড থিংস সাকসেসফুল পিপল ডু: লিটল এক্সারসাইজেস ফর সাকসেসফুল লিভিং’। এবং আমরা বইটি অনুবাদ করছি “সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা” শিরোনামে। সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন এই বই থেকে একটি করে বিষয় আলোচনা করা হবে। আজকের আয়োজনে জেনে নিন সফল ব্যক্তিদের করা ৪৩ নম্বর বিষয়টি সম্পর্কে।
অনুশীলন ৪৩- ‘ব্যর্থ হবার সাহস রাখুন’
শেষবার কবে আপনি কোন কাজে ব্যর্থ হয়েছেন? আরেকটু স্পষ্ট করে বলতে গেলে, শেষ কবে আপনি ভয় বা জড়তার জন্য কোন কাজ করা থেকে পিছু হটেছেন? ব্যর্থতার কথা চিন্তা করে করে আমরা আমাদের স্বপ্নের কথা ভুলে যাই। স্বপ্ন নিয়ে চিন্তা করতে ভুলে যাই। এমন মানুষদের প্রশিক্ষণ দিতে দিতে আমি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি যারা তাদের জীবনে বেশ বড়সড় কোন পরিবর্তন আনতে ভয় পান। আমি তাদের জিজ্ঞেস করি তখন, সবচেয়ে খারাপ হলেও কি হতে পারে? বিষাক্ত কোন সম্পর্ক, ক্যারিয়ার কিংবা জীবনে পরিবর্তন আনতে হবে। তারা আমাকে যে উত্তর দেন সেগুলো বেশিরভাগ সময়েই অযৌক্তিক!
মাথার মধ্যে সব সময় জীবন নিয়ে চিন্তা করা বন্ধ করুন। প্রায়শই, আমাদের জীবনের চিন্তা আমাদের পিছু হটিয়ে রাখে।
বিভিন্ন অযৌক্তিক চিন্তা আমাদের স্বপ্ন পূরণের ক্ষেত্রে অনেক বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। মানুষ কি ভাবছে তা ভেবে আমরা এতোটাই তটস্থ হয়ে থাকি যে নিজেরা যথেষ্ট পরিমাণ কাজ করতে পারি না। আপনার নিজস্ব যে পছন্দগুলো রয়েছে সেগুলো নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করুন। মানুষের বৃথা মন্তব্য, ভুল ধারণা এগুলো যেন আপনার কোন ক্ষতি করতে না পারে।
সে মুহূর্তে আপনার মনে হচ্ছে সব কিছু ভুলে সামনে এগিয়ে চলা দরকার, শুরু করুন কাজটি। আপনার জীবনের লক্ষ্য কত গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝতে চেষ্টা করুন। সফলতার আড়ালে যে ব্যর্থতাটি লুকিয়ে রয়েছে সেটি নিরীক্ষা করুন। সব সময় মনে রাখবেন, নামীদামী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণ বলেছেন যে একেবারেই চেষ্টা না করার চাইতে অল্প একটু করাও ভালো। আপনি কোনভাবেই চেষ্টা না করে সফলতা অর্জন করতে পারবেন না। হয়তো একদিন পেছনে ফিরে আপনি মনঃকষ্টে ভুগবেন সুযোগগুলো না নেওয়ার জন্য।
ভেবেচিন্তে ঝুঁকি নিতে শুরু করুন
আপনি কোন কাজ না করার পেছনে নিশ্চয়ই অনেক অজুহাত খুঁজে পাবেন। ঝুঁকি সবখানেই বিদ্যমান এবং তা আপনাকে ব্যর্থতার দিকে ধাবিত করতে পারে। আপনি হয়তো এমন কাউকে চেনেন যিনি আপনার কাছে সহজ মনে হয় কিন্তু এমন কিছু কাজ করা থেকে বিরত থাকেন। যেমন বিমানে চড়া থেকে, সবার সামনে কথা বলা থেকে। আমাদের প্রত্যেকেরই কোন না কোন সীমাবদ্ধতা আছে।
নতুন জিনিস শিখতে এবং সফলতা অর্জন করতে হলে আপনাকে অবশ্যই নিজস্ব গণ্ডি থেকে বের হতে হবে। নিজস্ব সহনসীমা অতিক্রম করতে হবে। আগে হয়তো এমন হয়েছে যে আপনি অনেক ধরণের ঝুঁকি অতিক্রম করে চলেছেন কিন্তু এখন আপনাকে ঝুঁকি নেওয়া শিখতে হবে।
আদর্শ মানতে পারবেন এমন কাউকে খুঁজুন
আপনি কাকে কাকে নিজ আদর্শ মনে করেন? তাদের একটা তালিকা তৈরি করুন। তাদের কোন কোন গুণ আপনার ভালো লাগে এবং আপনি কী কী অনুসরণ করতে চান সেটি চিন্তা করে নিন। একটা মানুষের সব গুণই যে ভালো হবে এমন কিন্তু নয়। বুঝেশুনে একেকটি পদক্ষেপ নিন। আপনি হয়তো ব্যর্থ হতে পারেন কিন্তু সেটিকে ভয় পেয়ে লাভ নেই কোন।


