
আমির হোসেন সজিব: বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন একটি প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে—সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনের সহযোগী ও ইসলামবিরোধী কর্মসূচির অংশীদাররা নিজেদের ‘সংখ্যালঘু’ পরিচয়ের আড়ালে পুনরায় গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন সন্তোষ শর্মা, কালবেলা পত্রিকার বর্তমান সম্পাদক।
একসময় যারা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দমন-পীড়নমূলক শাসনের সুবিধাভোগী ছিলেন, আজ তারা নিজেদের ভিকটিম সাজিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোটে জায়গা করে নেওয়ার অপচেষ্টায় ব্যস্ত। অথচ সন্তোষ শর্মার অতীত রেকর্ড বলছে ভিন্ন কথা।
ফ্যাসিস্ট সরকারের ছায়ায় ইসলামবিদ্বেষের ধারকঃ
শেখ হাসিনা সরকারের সময় সন্তোষ শর্মা শুধুমাত্র একটি পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন না, বরং তিনি কার্যত একটি মতাদর্শিক এজেন্ডার বাহক ছিলেন। বিশেষ করে ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমদের উপর নির্যাতনমূলক “জিজ্ঞাসাবাদ”—যেটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে প্রায় নিয়মিত ঘটনা ছিল—তার পেছনে সন্তোষের সরাসরি কিংবা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতার কথা বহু ভুক্তভোগী প্রকাশ করেছেন।
কালবেলা পত্রিকায় তার সম্পাদনায় বহু ইসলামবিদ্বেষী নিবন্ধ, সংবাদ ও মতামত প্রকাশিত হয়েছে। এতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দারুণভাবে আহত করা হয়। হিজাব, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা, ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক প্রতিবেদন এবং নানান ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হয়েছে একের পর এক।
“সংখ্যালঘু” সাজার অভিনয়ের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যঃ
সম্প্রতি সন্তোষ শর্মাকে জামায়াতে ইসলামীর একটি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে, যা ইতোমধ্যেই সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে চরম সমালোচিত। শুধু তাই নয়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি ভিডিও কনফারেন্সেও সন্তোষ শর্মাকে বক্তৃতা দিতে দেখা গেছে, যেখানে তিনি নিজেকে “অবহেলিত সংখ্যালঘু কণ্ঠস্বর” হিসেবে তুলে ধরেন।
প্রশ্ন হলো, যে ব্যক্তি এক দশক ধরে ইসলামের বিরুদ্ধে কলম ধরেছে, যে ব্যক্তি আলেমদের নির্যাতনের সহযোগী ছিল, সেই ব্যক্তি কীভাবে ইসলামপন্থী দলগুলোর মঞ্চে জায়গা পায়? এটি কি রাজনৈতিক সুবিধাবাদের নগ্ন চিত্র নয়?
ভারতঘেঁষা নীতি ও সন্তোষের সুবিধাবাদী অবস্থানঃ
সন্তোষ শর্মার অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, তিনি একটি ভারতঘেঁষা ইসলামবিরোধী এজেন্ডার ধারক ছিলেন। ভারতের সাথে হাসিনা সরকারের আপোসমূলক নীতিকে সে যেমন সমর্থন দিয়েছে, তেমনি ইসলামপন্থীদের গণআন্দোলন ও মতপ্রকাশের অধিকারকে দমন করতে কলম চালিয়েছে। এখন রাজনৈতিক পালাবদলের সময় এই ব্যক্তি নতুন পরিচয় নিয়ে আবারও মঞ্চে আসছেন, যেন কিছুই ঘটেনি!
বিচারের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার সময়ঃ
এখন সময় এসেছে ইতিহাসকে ভুলে গিয়ে অপরাধীদের পুনর্বাসন বন্ধ করার। “সংখ্যালঘু” পরিচয়ে অপরাধ ঢাকার অপচেষ্টা জনগণের চোখ এড়াবে না। সন্তোষ শর্মা একজন নির্যাতনকারীর দোসর, ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী এবং ইসলামবিদ্বেষী এজেন্ডার ধারক। তাকে বিচারের মুখোমুখি আনা হোক, না যে কোনো রাজনৈতিক জোটে জায়গা দেওয়া হোক—এই দাবি আজ সময়ের অনিবার্যতা।




