সখীপুরে ভোর বেলায় ভাসমান শ্রমিকের হাট

খাঁন আহম্মেদ হৃদয় পাশা,সখীপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মোখতার ফোয়ারা চত্বরে প্রতিদিন ভোরে ভাসমান শ্রমিকের হাট বসে। ভোরের আলো ফোটার আগেই শ্রমিকদের উপস্থিতিতে এলাকাটি সরব হয়ে ওঠে। সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে আবার ভিড় কমে যায়। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজন দৈনিক চুক্তিতে এখান থেকে শ্রমিক নিয়ে যান। চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে এ হাট জমে উঠেছে।
আজ (১৬ মে) মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে সখীপুর পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র মোখতার ফোয়ারা চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, ফোয়ারাকে ঘিরে সড়কে, বিভিন্ন দোকানের বারান্দা, ফুটপাতে ধান কাটার সরঞ্জাম নিয়ে দলে দলে শ্রমিকেরা দাঁড়িয়ে আছেন। একই সঙ্গে আসছেন কৃষকেরাও। হাটে আসা শ্রমিক ও কৃষকের মধ্যে চলছে দর-কষাকষি। এবার শ্রমিকের দর খুব চড়া বলে জানালেন কয়েকজন কৃষক।
উপজেলার কীর্তনখোলা গ্রাম থেকে আসা কৃষক শামসুল হক বলেন, ধান কাটার মৌসুমের শুরুতে ১ হাজার টাকায় একজন শ্রমিক পাওয়া গেছে। শুক্রবার ৮০০ টাকার কমে তাঁরা রাজি হচ্ছেন না।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থেকে আসা রমজান আলী নামের একজন শ্রমিক বললেন, ৮০০ টাকায় এখন আর সংসার চলছে না। আগে ৪০০ টাকা দৈনিক মজুরি পেতাম। তখন তা দিয়েই সংসার চলত। তবে এখন আর চলছে না।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার বলেন, একই সঙ্গে সবাই ধান তোলা শুরু করায় উপজেলার সর্বত্র ব্যাপকভাবে কৃষি শ্রমিকের ওই বাজারে শ্রমিক নিতে আসা উপজেলার অভাব দেখা দিয়েছে।
পাথারপুর গ্রামের বাছেদ মিয়া নামের একজন কৃষক বলেন, আমি ইতিমধ্যে এক একর জমির ধান কেটে ফেলেছি। আরও এক একর জমির ধান কাটার জন্য চারজন শ্রমিক নেওয়ার জন্য এসেছি। শুনেছি। এই বাজারে এক সঙ্গে অনেক শ্রমিক পাওয়া যায়। তবে দাম একটু বেশিই মনে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২২- ২৩ অর্থবছরে ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১৭ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ হয়েছে। কৃষিপ্রধান এই উপজেলার ৮০ শতাংশ কৃষক ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল।




