সখীপুরে খালের টাকা আত্মসাৎ অভিযোগে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ

খাঁন আহম্মেদ হৃদয় পাশা, সখীপুর(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের টেংরা মাদলা খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ এর টাকা আত্মসাৎ অভিযোগে সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে সাবেক কোষাধ্যক্ষ আঃ মান্নান সিকদারের মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে আজ বুধবার (২৯ মার্চ) সকালে সমিতির সভাপতি ইউপি সদস্য মোঃ রুহুল আমীন মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদসহ প্রায় ৫ শতাধিক সদস্য নিয়ে মান্নান সিকদারের মিথ্যে অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
জানা যায়,আঃ মান্নান সিকদার কাকড়াজান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন তিনি।
মানববন্ধনে, টেংরা মাদলা খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি রুহুল আমীন মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদ,প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ওসমান গনি, প্রাথমিক সদস্য তারা বানু,রেবেকা, নাসিমা,লাভলী বেগম বক্তব্য রাখেন।
বক্তাগণ, তাদের বক্তব্যে সাবেক কোষাধ্যক্ষ আঃ মান্নান সিকদারের মিথ্যা অভিযোগে মানববন্ধনের প্রতিবাদ ও মিথ্যে প্রতিশ্রুতিতে অসহায় সদস্যদের কাছ থেকে নিজেই অর্থ আত্মসাৎ করে সমিতির সভাপতি মোঃ রুহুল আমীন মেম্বারের উপর দোষ চাপানোর জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান তারা।
তাদের দাবি সাবেক কোষাধ্যক্ষ আঃ মান্নান সিকদার সমিতির টাকা আত্মসাৎ ও সমিতির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয় ও বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত থাকায় তাকে সমিতি থেকে বাধ দেওয়া হয়েছে। এজন্যই মুলত সাবেক কোষাধ্যক্ষ আঃ মান্নান সিকদার মিথ্যে হয়রানি করে গুটি কয়েক অসাধু কুচক্রী মহল ও তার আপন সহোদর ভাই রফিক এবং তার স্ত্রী কে সাথে নিয়ে সমিতির সভাপতি ইউপি সদস্য মোঃ রুহুল আমীন এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন।
সমিতির সভাপতি ইউপি সদস্য মোঃ রুহুল আমীন মেম্বার বলেন,আঃ মান্নান সিকদার কোষাধ্যক্ষ থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন কৌশলে সমিতি থেকে ৭ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে যার লিখিত সত্যায়িত কপি আমার কাছে আছে ও পর্যায়ক্রমে আমার অজান্তে সমিতির সদস্যদের মিথ্যে প্রলোভন দেখিয়ে সদস্য তারা বানুর কাছ থেকে পাওয়ার টিলার ও উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতি এবং গবাদিপশু দেবে বলে ২ লক্ষ ২৫হাজার টাকা, সদস্য রেবেকার কাছ থেকে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, সদস্য নাসিমা,লাভলী,জোসনা,মুন্না মিয়া,সায়েম মিয়া ও আলেয়া বেগমের কাছ থেকে মোট ৪ লক্ষ টাকা সমিতির নাম ভাঙ্গিয়ে একক ভাবে সুবিধা নিয়েছেন তিনি।
এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে সমিতি থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে সে আমার নির্বাচনী প্রতিপক্ষ সোনা মিয়ার সাথে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন ভাবে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এবং খালের পারিন্দার গাছ তার ভাই রফিক মিলে রাতের আঁধারে ভেঙ্গে ও ওঠিয়ে ফেলে দেয়, এব্যাপারে গাছ পাহারাদার ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল জেলা কোর্টে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে ও সখীপুর উপজেলা পরিষদ বরাবর এবং কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। আমি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সঠিক বিচারের দাবি ও তার কঠিন শাস্তি কামনা করছি।
এবিষয়ে কাকড়াজান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও টেংরা মাদলা খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাবেক কোষাধ্যক্ষ আঃ মান্নান সিকদার বলেন, আমি তিন বছর যাবদ সমিতির সাথে বেকার গেটে গেছি আজ পর্যন্ত কোন ধরনের সুযোগ সুবিধা আমি সমিতি থেকে পায়নি,সে (রুহুল আমীন) একজন মিথ্যাবাদী। সমিতির সভাপতি রুহুল আমীন মেম্বার যে টাকা আত্মসাৎ করেছে তার সকল প্রমাণ আমার কাছে আছে এবং ইতিমধ্যে আমি গতকাল ২৮ মার্চ মঙ্গলবার মানববন্ধনসহ (গত ১৯ মার্চ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী এলজি ইডি, টাঙ্গাইল এবং কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছি।
এদিকে সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদ সমিতির টাকা আত্মসাৎ এর বিষয়টি সভাপতি রুহুল আমীন মেম্বারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে দাবী করেছেন তিনি।




