
চট্টগ্রাম পর্বে ঘরের দল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে হারের পর কোনোভাবেই জয়ের দেখা পাচ্ছিল না কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। টানা চার ম্যাচ হারের পর সেই দলটা চট্টগ্রামকে হারিয়েই পেল ভুলে যাওয়া জয়ের স্বাদ। তবে সহজ ম্যাচটা শেষ দিকে বেশ কঠিন করে জিতেছে দলটি। শেষ ওভারের থ্রিলার জিততে হয়েছে কুমিল্লাকে।
মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু বিপিএলে দিনের প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রামকে ৩ উইকেটে হারায় কুমিল্লা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৫৯ রান করে চট্টগ্রাম। জবাব দিতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে শেষ বলে জয় নিশ্চিত করে কুমিল্লা।
১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ডেভিড মালানের ব্যাটে দারুণ শুরু পায় কুমিল্লা। ১৩.৫ ওভারে দলীয় শতরানও পূরণ করে তারা। অপ্রতিরোধ্যভাবে এগিয়ে যাওয়া দলটার শেষ ৪ ওভারে দরকার ছিল মাত্র ২৬ রান। হাতে ৭ উইকেট।
কিন্তু ১৭তম ওভার থেকে নাটকের শুরু। ১৮ রান করা সাব্বির রহমানকে প্রথম বলেই ফিরিয়ে দিলেন বার্ল। যিনি মালানকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছিলেন। আর কোনো উইকেট না পেলেও বার্ল রান দিলেন মাত্র ১।
আর ১৮তম ওভারে রুবেল হোসেন জোড়া উইকেট শিকার করলেন। ডেভিড উইসে (১) ও মহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে (০) ফিরিয়ে দেন। ব্যয় করেন মাত্র ১ রান। নাটকীয়ভাবে ম্যাচের মোড়টাও ঘুরে যায় তাতে।
মেহেদী হাসান রানার করা ১৯তম ওভারে কুমিল্লা ৮ রান তুললেও শেষ ওভারে জয়ের জন্য তাদের দরকার পড়ে ১৬ রানের। যেখানে নাটক হলো। লিয়াম প্লাঙ্কেটের প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন মালান। পরের দুই বলে চার ও ছক্কা হাঁকান আবু হায়দার রনি। চতুর্থ বলে লেগ বাই থেকে আসে এক রান। পঞ্চম বলে মালান রান আউট হয়ে ফেরেন। শেষ বলে ৩ রানের সমীকরণ ছিল কুমিল্লার। প্লাঙ্কেটকে চার হাঁকিয়ে কুমিল্লার জয় নিশ্চিত করেন মুজিব।
৪ রানে অপরাজিত ছিলেন মুজিব। ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন আবু হায়দার। মালান সর্বোচ্চ ৭৪ রান করেন। তার ৫১ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি করে চার ও ছক্কা। চট্টগ্রামের পক্ষে রুবেল হোসেন সর্বাধিক ২টি করে উইকেট নেন।
এর আগে লেন্ডন সিমন্স ও জুনায়েদ সিদ্দিকের ব্যাটে দুর্দান্ত শুরুর পরও নিজেদের স্কোরটাকে তেমন বড় করতে পারেনি চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। সিমন্স ও জুনায়েদ উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ১০৩ রান। ১২তম ওভারে সৌম্য সরকার সিমন্সকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন।
৩৪ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৫৪ রান করে ফেরেন সিমন্স। পরের ওভারে জুনায়েদও ফেরেন রান আউট হয়ে। ৩৭ বলে ৬ চারে ৪৫ রান করেন এই বা-হাঁতি। এরপর দ্রুতই ফিরে যান রায়ার্ন বার্ল (২), চ্যাডউইক ওয়ালটন (৯)। নুরুল হাসান সোহানও ৪ রানের বেশি করতে পারেননি।
তবে আসরে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেই জিয়াউর রহমান ঝড় তুললেন। ২১ বলে অপরাজিত ৩৪ রান করেন তিনি ৪ ছক্কায়। মাঝের ধাক্কার পরও তাই চট্টগ্রাম পেরোতে পেরেছিল দেড় শ রানের কোটা। কুমিল্লার পক্ষে সৌম্য সরকার সর্বাধিক ২ উইকেট নিয়েছেন। ম্যাচসেরা হয়েছেন মালান।
অষ্টম ম্যাচে কুমিল্লার এটি মাত্র তৃতীয় জয়। ৬ পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান পঞ্চম। অন্যদিকে হারলেও শীর্ষে আছে চট্টগ্রামই। ৯ ম্যাচে ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট তাদের।




