
মিজানুর রহমান, শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুর জেলায় এবার পবিত্র ঈদুল আজহার কুরবানির হাট কাঁপাতে আসছে শাহীওয়াল জাতের ৩২ মণ ওজনের ষাঁড় গরু ‘লায়ন’।
৩ বছর ৭ মাস বয়সের গরুটি শেরপুর জেলায় সর্বোচ্চ ওজনের ষাঁড়। গরুর মালিক শখ করে গরুটির নাম রেখেছেন ‘লায়ন’ নামের সাথে গরুর মিল রয়েছে এমন নাম রাখা হয়েছে বলে জানান এবং গরুর চালচলনে অন্যরকম রাজকীয় ভাব রয়েছে। এবার জেলার বড় গরু হিসেবে লায়েই সবার নজর কেড়েছে। জেলার লসমনপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মতিন ও ঝর্ণা বেগম দম্পতি নিজ বাড়িতে লায়নকে লালন পালন করেছেন। গরু দেখতে আশপাশের জেলা থেকে আসছেন দর্শনার্থী ও ক্রেতাগণ। লায়নের দাম হাকা হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। গৃহিণী ঝর্ণা বেগম জানান, মেয়ের জমানো ২২ হাজার টাকায় গাভি কেনার পর দফায় দফায় প্রজননে শাহীওয়াল জাতের বীজ থেকে লায়ন গরু জন্ম নিয়। বাড়ির পাশে স্থানীয় প্রতিবেশী পশু ডাক্তার প্রতিনিয়ত গরুর খোঁজখবর রেখেছেন। চিকিৎসা দিয়েছেন। গরুটির গ্রোথ দেখে এটিকে ভালভাবে যত্ন নেয়া শুরু করে পরিবার। শুধু তাই নয় এই কৃষকের খামারে বিভিন্ন জাতের আরও ৪টি গরু রয়েছে। আব্দুল মতিন ও ঝর্ণা বেগম দম্পতি ইনকিলাবকে বলেন বড় ছেলে ও মেয়ের ঘরে নাতি এই গরুটি দেখভাল করেন। প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হচ্ছে লায়নকে। কাঁচা ঘাস ছাড়া শুকনো খড়, ভুসি, বিভিন্ন ফলমূলসহ প্রাকৃতিক খাবারেই অভ্যস্ত লায়ন। শান্ত স্বভাবের গরু লায়নকে লালন পালনে কোনেই সমস্যাই হয়নি বলে জানান গৃহিণী ঝর্ণা বেগম। খোলামেলা ঘরে রাখা এবং প্রাকৃতিক খাবার কারণে ‘লায়ন’গরুটির জন্য ফ্যান ও ব্যবহার করতে হয়নি। প্রতি দিন প্রায় ৭শ টাকার খাবার দিতে হচ্ছে লায়নকে। মতিন- ঝরনা দম্পতির ছেলে মিলন ইনকিলাবকে জানান, প্রতিদিন ৩বার গোসল করানো আর সময়মতো খাবার দিতে হয় লায়নকে। অনেক যত্ন করে গরুটিকে নিজ সন্তানের মত করে লালন পালন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিনই লায়নকে দেখতে আসছেন ক্রেতাগণ।
দরদাম ও করছেন। আবার কেউ শুধু দেখার জন্য ও আসছেন। বাজিতখিলার ফজলু মিয়া জানান, ৩২ মণ ওজনের এতো বড় গরু শেরপুরে আর দেখেননি। গরুটি দেখে ফজলু মিয়া দারুণ খুশি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ কান্তি দত্ত জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে শেরপুর জেলায় লায়নই সর্বোচ্চ ওজনের গরু। এর ওজন প্রায় ১ হাজার ২৮০ কেজি অর্থাৎপ্রায় ৩২ মণ হবে।




