
মিজানুর রহমান, শেরপুর প্রতিনিধি: পরিবারের ১১ সন্তানের মধ্যে ৭ ভাই-বোনই মানসিক, শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী। এরমধ্যে প্রতিবন্ধী বড় বোন হাজেরা বেগম (৭০) মারা গেছেন ২০১৯ সালে। এখন এক হাড়িতে খেয়ে একই ঘরে বসবাস করছেন বাকী ৬ প্রতিবন্ধী ভাই-বোন। সুস্থ বড় ভাই মোহাম্মদ আলী ও ৬ ভাই-বোনের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করলেও ২০২৩ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ফলে এদের অভিভাবক এখন নালিতাবাড়ী প্রেসক্লাব। বর্তমানে বেঁচে থাকা ৬ জন হলেন-২ ভাই জয়নাল আবেদীন (৬৬) ও আজগর আলী (৬২) এবং ৪ বোন রমিজা বেগম (৬০), রহিমা বেগম (৫৮),কুলসুম বেগম (৫৫) ও ফাতেমা বেগম (৪৭)। জন্ম থেকেই বাক, শ্রবণ ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তারা। অসহায় পরিবারের ৭ ভাই-বোন এক সময় ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বিত্তবানের সহযোগিতায় বছর জুড়ে ৬ ভাই-বোনের ভরণ-পোষণ ছাড়াও প্রতিটি ঈদে খাদ্যসামগ্রী ছাড়াও প্রত্যেকের জন্য নতুন জামা-কাপড় থেকে শুরু করে সব ধরণের সহায়তা করে প্রেসক্লাব।
ফলে প্রেসক্লাবের পরিচিত মুখগুলো দেখলেই তাদের যতো অভিযোগ-অনুযোগ, আবদার আর আবেগঘন শারীরিক অঙ্গভঙ্গি প্রকাশ শুরু হয়। এমনকি কোনকিছুর ঘাটতি থাকলে তা নিয়েও তারা অভিমান প্রকাশ করে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে। সাংবাদিকরাও তাদের সব দাবী পূরণ করে চলেছেন বছরের পর বছর ধরে। ২০০৪ সালের পর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পরিবারটির করুণ জীবনচিত্র ফুটে ওঠতে শুরু করে। ২০০৮ সালে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রচারের পর পরিবারটিকে সহায়তা দিতে এগিয়ে আসেন অনেকে। বিত্তবানদের আশ্বাসে পরিবারটির পাশে দাঁড়ান নালিতাবাড়ী প্রেসক্লাবের সাংবাদিকেরা ও। প্রায় দেড় বছর হলো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা প্রতিমাসে চাল, ডাল ও কাঁচাবাজারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও প্রতি ঈদে নতুন জামা-কাপড়, জুতাও দিয়ে যাচ্ছেন নিভৃতে। এবারও গত ঈদের উপহার হিসেবে সহায়তা দিতে সাথে যোগ হয়েছেন নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার ববি।




