উপমহাদেশশিরোনাম

শুধু প্রেমই নয়, ভিন্ন ধর্মের ভারতীয় ষোড়শীকে বিয়েও করেছিলেন জিন্নাহ

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সঙ্গে পার্শি সম্প্রদায়ের ভারতীয় এক ষোড়শীর অজানা প্রেমকাহিনী ও বিয়ে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা- বিবিসি। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ৪০ বছর বয়সে দার্জিলিংয়ে বেড়াতে গিয়ে লেডি রতি নামের ১৬ বছরের এক তরুণীর প্রেমে পড়ে যান জিন্নাহ। পরে অবশ্য তাকে ধর্মান্তরিত করে বিয়েও করেন।

লেডি রতির বাবা ছিলেন তৎকালীন মুম্বাইয়ের সবথেকে বড় ধনীদের মধ্যে একজন স্যার দিনশা পেটিট। লেডি রতির পুরো নাম ছিল রতনবাই পেটিট। জিন্নাহ যখন ভারতীয় রাজনীতির শিখরের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন, তখন নিজের বন্ধু আর ব্যারিস্টার মুহম্মদ আলী জিন্নাহকে দার্জিলিংয়ে বেড়াতে আসার জন্য নিমন্ত্রণ করেছিলেন স্যার দিনশা পেটিট। ওখানেই জিন্নাহ তার মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে এই প্রস্তাবে সাংঘাতিক উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন স্যার দিনশা। উত্তেজনা এতটাই ছিল যে অতিথিকে সেই মুহূর্তে নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন তিনি। জিন্নাহ অনেক চেষ্টা করেও স্যার দিনশার মত বদলাতে পারেননি।

এতেও দমে না গিয়ে, কোর্ট থেকেও আদেশ বের করালেন স্যার দিনশা যেন লেডি রতি প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত জিন্নাহ যাতে তার মেয়ের সঙ্গে দেখা না করতে পারেন। এত কিছু করেও রতি আর জিন্নাহর লুকিয়ে দেখা করা বা একে অন্যকে চিঠি লেখা থামাতে পারেননি স্যার দিনশা পেটিট। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর জীবনীকার অধ্যাপক শারিফ আল মুজাহিদ বলেছেন, ‘১৯১৮ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি লেডি রতি ১৮ তে পা দিলেন। আর সেদিনই একটা ছাতা আর এক জোড়া পোশাক নিয়ে পিতৃগৃহ ত্যাগ করলেন তিনি। রতিকে জামিয়া মসজিদে নিয়ে গেলেন জিন্নাহ। ইসলাম ধর্মান্তরিত করে পরের দিন, ১৮ই এপ্রিল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ আর লেডি রতির নিকাহ সম্পন্ন হলো।’

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ব্যস্ততা আর স্ত্রীর সঙ্গে বয়সের ফারাক জিন্নাহ আর রতির মধ্যে ধীরে ধীরে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করে দিল। তখন অল্পবয়সী স্ত্রী আর দুধের শিশুকন্যার জন্য দেওয়ার মতো সময় তার হাতে বিশেষ ছিল না। ১৯২৬ সাল নাগাদ ভারতের রাজনীতিতে জিন্নাহর যে অবস্থান ছিল, সেটা ১৯১৬ সালে তাদের বিয়ের সময়ের থেকে অনেক উঁচুতে। আর এই কতগুলো বছরে জিন্নাহ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি শুরু করেছেন। অন্যদিকে লেডি রতিও মাঝেমাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়তেন। একবার অসুস্থতার পরে ফ্রান্স থেকে এম এস রাজপুতানা নামের জাহাজে চেপে দেশে ফেরার সময়ে স্বামীকে একটা চিঠি লিখেছিলেন রতি।

‘আমার জন্য তুমি যা করেছ, তার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমি তোমাকে যতটা চেয়েছিলাম, আর কোনো পুরুষমানুষকেই কোনো নারী বোধহয় অতটা চায় নি কখনও। তুমি আমাকে ওই ফুলটার মতো করেই মনে রেখ যেটা ছিঁড়ে এনেছিলে। যে ফুলটাকে তুমি পা দিয়ে মাড়িয়ে দিয়েছ, সেটাকে মনে রাখার দরকার নেই’ লিখেছিলেন রতি জিন্নাহ। ১৯২৯ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি, মাত্র ২৯ বছর বয়সে মারা যান তিনি। বিবিসি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button