sliderস্থানিয়

শিবালয়ের উথলী-জাফরগঞ্জ বাজারের রাস্তা খানাখন্দে ভরা

শিবালয় (মানিকগঞ্জ)প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী বাজার। এখান থেকে জাফরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি সড়ক রয়েছে।স্থানীয়দের পাশাপাশি জেলার শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলার বাসিন্দারাও এই পথটি ব্যবহার করেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, কৃষিপণ্য সরবরাহের পাশাপাশি চার উপজেলার মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রমের জন্য রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা খুবই নাজুক।

সড়কটিতে রয়েছে বড় বড় গর্ত। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি জলাশয়ে রূপ নেয়। হয়ে পড়ে চলাচলের অনুপযোগী। গর্তের মধ্যে আটকা পড়ে বিভিন্ন যানবাহন নষ্ট হয়। অবস্থা এমন যে, হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়ে। যানচালকদের আয়ের একটি বড় অংশ খরচ হয় গাড়ি মেরামতের পেছনে। আর এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে শুধু সংস্কারের অভাবে। সর্বশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাস্তাটিতে কাজ হয়েছিল। অর্থাৎ গত এক দশকে রাস্তাটিতে উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি।

স্থানীয়রা বলছেন, রাস্তাটির কারণে তারা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা রাস্তাটি ঠিক করার দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নজরে আসার কথা উল্লেখ করে উপজেলা প্রশাসন বলছে, উন্নয়ন পরিকল্পনায় সড়কটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিগগিরই রাস্তার কাজ শুরু করা হবে।

বাড়াদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী দিবা কর্মকার বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়। বৃষ্টির দিনে সেই কষ্টের পরিমাণ আরও বাড়ে। খানাখন্দে ভরা সড়কটি দিয়ে হেঁটেও আসা-যাওয়া করা কঠিন।’
স্থানীয় কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন,‘২০ মিনিটের রাস্তা যেতে দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগে। আর বৃষ্টির দিনে তো হাঁটাও যায় না। সিএনজিচালিত অটোরিকশা আর ইজিবাইক মাঝে মধ্যেই বিকল হয়ে যায়। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়।’

রাস্তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আইনাল হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে বাজারে কৃষিপণ্য নিয়ে যাই। কিন্তু সময়মতো পৌঁছাতে পারি না। গাড়ি ভাড়াও বেশি। লাভের একটা অংশ রাস্তাতেই চলে যায়।’একই অভিযোগ তোলেন ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, রাস্তায় যানবাহন না চলায় পণ্য পরিবহন করতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে। এতে স্থানীয় বাজারগুলোতে সরবরাহ সংকট দেখা দেয়। যার প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের দামে।

উথলী বাজারের ব্যবসায়ী বিল্টু ঘোষ বলেন, ‘আমার দোকানের সামনেই অনেক বড় গর্ত হয়ে আছে। বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘসময় ধরে এই সড়ক এমন বেহাল থাকায় সবাইকেই কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে। বহু বছর ধরে দাবি জানানো হলেও এ সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি।’

মো. সাইদুর নামে এক স্থানীয় দোকানি বলেন, ‘রাস্তাঘাট ভালো না থাকলে ব্যবসা হয় না। মালামাল ঠিকমতো আসে না, আবার ক্রেতাও কমে গেছে। আমাদের সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে। সরকারের কাছে আবেদন, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হোক।’

জাফরগঞ্জ থেকে উথলীগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ফজলু মিয়া বলেছেন, ‘মৃত্যুকে সঙ্গে নিয়ে এই সড়কে গাড়ি চালাতে হয়। পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে আমরা গাড়ি চালাই। একটু এদিক-সেদিক হলেই গাড়ি উল্টে যায়। ইঞ্জিনে পানি ঢুকে মোটর জ্বলে যায়। কখনো চাকা গর্তে পড়ে, কখনো ব্রেক নষ্ট হয়। মেরামত করতেই আয়ের টাকা শেষ হয়ে যায়।’

বাড়াদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ্ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘উথুলী-জাফরগঞ্জ সড়কটি কেবল একটি রাস্তা নয়, এটি মানিকগঞ্জের তিন উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের জীবনযাত্রা, শিক্ষা, চিকিৎসাব্যবস্থা ও অর্থনীতি নির্ধারণ করে। দীর্ঘদিন সংস্কারহীন পড়ে থাকা এই সড়কটি শুধু জনভোগান্তি বাড়াচ্ছে না, পুরো এলাকার মানুষের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেছেন, ‘উথুলী বাজার থেকে জাফরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত সড়কটি জরাজীর্ণ হয়ে আছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সড়কটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দ্রুতই সংস্কারকাজ শুরু হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button