
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: শিবগঞ্জে ৬দিন ধরে মা ও মেয়ে নিখোঁজ রয়েছে। প্রতিকার চেয়ে নিখোঁজ হওয়া গৃহবধূ শারমিন বেগমের ভাই সোহেল আলি শিবগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেছেন। গত ০১-০১-২০২৬ নিখোঁজ গৃহবধূর ভাই সোহেলের স্বাক্ষরিত জিডি ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা শারমিন বেগম ও তার ছোট মেয়ে রিফা খাতুন গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, রবিবার সকাল ১১টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বের হন। বের হওয়ার সময় তিনি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি স্থানীয় এক মোবাইল মেকারের দোকানে রেখে যান এবং জানান, ফোনে সমস্যা হয়েছে—মেরামত শেষে সেটি যেন তার শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে মোবাইল মেকার ফোনটি শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেন। এরপর থেকে মা ও মেয়ের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
দিনভর শারমিন বাড়িতে ফিরে না আসায় তার ননদ শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছানো ফোনটি থেকে শারমিনের ভাই মো. সোহেল আলীকে ফোন করে জানান যে, শারমিন সকাল ১১টার দিকে বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন। তবে সোহেল আলী জানান, শারমিন ও তার মেয়ে বাবার বাড়িতে পৌঁছাননি। পরে আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পায়নি।
এলাকাবাসী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা জানান, শারমিন বেগম বিভিন্ন সময় একাধিক পুরুষের সঙ্গে মোবাইলে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতেন এবং ভিডিও কলেও যোগাযোগ রাখতেন। শারমিনের বড় মেয়ে রাফিয়া খাতুন জানান, তাদের দুই বোনকে এক কক্ষে ঘুমাতে বলা হতো এবং তার মা আলাদা কক্ষে থাকতেন।
শারমিনের ননদ ময়না জানান, নিখোঁজের একদিন পর থানায় হারানোর সাধারণ ডায়েরি করা হয়। মোবাইল মেকারের দোকানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শারমিন নিজেই স্বেচ্ছায় ফোনটি দোকানে রেখে যান এবং কোনো ত্রুটি ছাড়াই সেটি শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দিতে বলেন।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের বাসিন্দা শারমিন বেগম প্রায় ১৫ বছর আগে শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের আব্দুল লতিফের ছেলে রবিউল ইসলাম রবুর সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। সংসারের আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে প্রায় ৪ বছর আগে রবিউল ইসলাম রবু বিদেশে পাড়ি জমান। এ সময়ে তিনি ছুটিতে কয়েকবার বাড়িতে এলেও বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।
স্বামী প্রবাসে থাকায় শারমিন দুই মেয়েকে নিয়ে আলাদা সংসারে বসবাস করতেন। বড় মেয়ে রাফিয়া খাতুন ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে রিফা খাতুন দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। সংসারের বাজার-সদাই ও মেয়েদের পড়াশোনার সব দায়িত্ব শারমিনকেই বহন করতে হতো।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির জানান, থানায় নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




