sliderস্থানিয়

শিবগঞ্জে কৃত্রিম সার সংকট ,কৃষকদের ভোগান্তি চরমে

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: শিবগঞ্জে রবি শস্য আবাদের ভরা মৌসুমে শিবগঞ্জে শত শত কৃষক পর্যপ্ত সার না পেযে মাথায় হাতে তুলেছে। ছুটাছুটি করছেন এক দোকান থেকে অন্য দোকানে। মিলছে না তাদের ভাগ্যে প্রয়োজন মোতাবেক সার। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন শিবগঞ্জে সারের কোন সংকট নেই। কৃষকরা না বুঝে আগাম সার মজুদ করে রাখার প্রতিযোগীতা সৃষ্টি করেছে। সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাট বাজার ও গ্রামে ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা জানা গেছে, সার না পাওযায় অসহ্য ভোগান্তির কথা। তাদের অভিযোগ সরকার চাহিদা মোতাবেক সার সরবরাহ করলেও স্বার্থন্বেষী কিছু লোক সিন্ডিকেট তৈরী করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম আদায় করছে। আমারও বাধ্য হয়ে বিভিন্ন দোকান হতে বেশী দামে সার ক্রয় করছি। তারা বলছেন রবি শস্যের ভরা মৌসুম। সময় মত আবাদ না করতে না পারলে উপযুক্ত ফলন পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা সারের জন্য দিনের পর দিন সার ডিলারদের দোকানে ঘুরেও সার পাচ্ছি না।

সরজমিনে দেখা গেছে শত শত কৃষক সার গুদাম বা দোকানের সামনে প্রখর রোদের মাঝে লাইন ধরে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে আছে। কেউ কেউ না পেয়ে বকাবকি করছে।মনাকষা ইউনিয়নের একরাম আলি,সোহরাব আলি,মহশিন আলি,শাহাবাজপুর ইউনিয়নের হাসান আলি,সোহেল উদ্দিন সহ বিভিন্ন বিভিন্ন এলাকার শত শত কৃষক অভিযোগ করে বলেন আমরা প্রয়োজন মত সার না পেয়ে বাহির দোকান থেকে কেজি প্রতি ৭ থেকে ১০ টাকা বেশী দামে ক্রয় করছি। শিবগঞ্জের কৃষক রুবেল আলি জানান আমি নয় বিঘা জমিতে রবি শস্য প্রায় ৫২বিঘা আম চাষে প্রচুর সার প্রয়োজন। কিন্তু অনেক ঘুরাঘুরি করে মাত্র তিন বস্তা সার পেযেছি। বাকীগুলো যেমন ডিএপি ১৬শ টাকা বস্তা,পটাশ ১১শ টাকা বস্তা টি এসপি ১৮৫০ টাকা বস্তা দরে ক্রয় করে জমিতে ও আমগাছে দিয়েছি। অথচ ডি এপির সরকারী রেট হলো ১০৫০টাকা বস্তা,টিএসপি সরকারী রেট হলো ১৩৫০ টাকা বস্তা পটাশ এক হাজার টাকা বস্তা ইউরিয়া ১৩৫০ টাকা বস্তা। একই কথা জানালেন বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেক কৃষক। তাদের অভিযোগ ডিলার ও তাদের লোকজন গোপনে দোকানদারদের নিকট সার বিক্রী করে অতিরিক্ত লাভ করছে। আমরা গেলে বলে সার বিতরণ করে শেষ করে দিয়েছি। অথচা ওই সারই আবার হাট বাজার ও গ্রামের দোকানদারদের নিকট পাওয়া যাচ্ছে। অন্য দিকে সার ডিলার ও তাদের লোকজন অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন আমরা বিধি মোতাবেক কৃষি অফিসারের উপস্থিতিতে কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ করছি। কোন দোকানদারের কাছে প্রকাশ্য বা গোপনে সার বিক্রী করি না। তবে কিছু কৃষক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার মজুদ করার উদ্দেশ্যে আমাদের সাথে কথা কাটাকাটি করছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার নয়ন মিঞা জানান, বর্তমানে সারের কোন সংকট নেই। এ মৌসুমে বরাদ্দকৃত ইউরিয়া ৪৮১ মে:টনের স্থলে উত্তোলন হয়েছে ২৯৪ মে:টন, টিএসপি ২৭২ মে:টনের মধ্যে উত্তোলন হয়েছে ২৬৩মে:টন ও ডিএপি ৭২৫ মে:টনের মধ্যে ৬৫৫ মে:টন উত্তোলন করে বিতরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সারের সংকট হবে মনে করে অতিরিক্ত সার মজুদ রাখার জন্য ডিলারও তদের লোকজনের সাথে দূব্যবহার করছে।

তিনি আরো বলেন কৃষকরা যাতে কোন ধরনের হয়রানীর শিকার না হয়,সে জন্য প্রতিটি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি অফিসারের উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া পর্যপ্ত সার সরকারী ভাবে মজুদ রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন মোতাবেক বিতরণ করা হবে। তিনি আরো বলেন যদি কেউ অতিরিক্ত দামে সার বিক্রী করে থাকে,তবে আমরা অভিযোগ পেলে জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button